ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

মাদরাসাছাত্রকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেললেন কলেজছাত্র

ইনসেটে নিহত আন্দালিভ সাদমান রাফি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসাছাত্রকে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে। সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তরুণকে শনিবার (৯ মে) দুপুরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো স্থান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর নাম আন্দালিভ সাদমান রাফি (৮)। সে মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম ও পাপিয়া সুলতানা দম্পতির ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। স্থানীয় একটি রেসিডেন্সিয়াল মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত রাফি।
হত্যার অভিযোগ ওঠা তরুণ খোকন মিয়া (২১) একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবদুল বারেকের ছেলে এবং স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার পর থেকে নিখোঁজ ছিল রাফি। তাকে খুঁজে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির সূত্র ধরে শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশী খোকন মিয়ার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে খোকন মিয়া শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে রাফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, খোকন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। একটি সাইটে তার ১ লাখ ১২ হাজার টাকা আটকে যায়। সে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের সহযোগিতা চায়। শর্ত ছিল ১২ হাজার টাকা সে নেবে, বাকি টাকা আমাদের থাকবে। পরে অনেক চেষ্টা করে আমরা মাত্র ২৪ হাজার টাকা তুলতে পারি। এর মধ্যে ১২ হাজার টাকা নেওয়ার পরও সে আরও টাকা দাবি করছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মুক্তাগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির বাবার সঙ্গে খোকন মিয়ার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

মাদরাসাছাত্রকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেললেন কলেজছাত্র

আপডেট সময় ০৬:২৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ইনসেটে নিহত আন্দালিভ সাদমান রাফি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসাছাত্রকে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে। সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তরুণকে শনিবার (৯ মে) দুপুরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো স্থান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর নাম আন্দালিভ সাদমান রাফি (৮)। সে মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম ও পাপিয়া সুলতানা দম্পতির ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। স্থানীয় একটি রেসিডেন্সিয়াল মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত রাফি।
হত্যার অভিযোগ ওঠা তরুণ খোকন মিয়া (২১) একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবদুল বারেকের ছেলে এবং স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার পর থেকে নিখোঁজ ছিল রাফি। তাকে খুঁজে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির সূত্র ধরে শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশী খোকন মিয়ার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে খোকন মিয়া শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে রাফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, খোকন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। একটি সাইটে তার ১ লাখ ১২ হাজার টাকা আটকে যায়। সে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের সহযোগিতা চায়। শর্ত ছিল ১২ হাজার টাকা সে নেবে, বাকি টাকা আমাদের থাকবে। পরে অনেক চেষ্টা করে আমরা মাত্র ২৪ হাজার টাকা তুলতে পারি। এর মধ্যে ১২ হাজার টাকা নেওয়ার পরও সে আরও টাকা দাবি করছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মুক্তাগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির বাবার সঙ্গে খোকন মিয়ার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।