রংপুর মহানগর কুটির পাড়া, আলমনগর, শিশু কলি প্রি ক্যাডেট স্কুল শিবরামে সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনরকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় দরজা জানালা বিহীন টিনের ঘরে চলছে পাঠদানের কর্মসূচি। কোমলমতি বাচ্চারা গরমে অতিষ্ঠ, অভিভাবকদের বসার জন্য আছে খুপরি ঘর, নেই পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, গরমে এবং বর্ষায় তাদের ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়, প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শিক্ষক নিজেরাই ছাত্র, অনেকেরই মাথা গরম না বুঝেই মাঝে মধ্যে বাচ্চাদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত খারাপ আচরণ করে বসে।
এ বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বাচ্চাদের নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটলে মোছাঃ নাজনীন বেগম (একাডেমিক পরিচালক) উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সহধর্মিনী নিজের পছন্দের শিক্ষকদের ও ম্যানেজিং কমিটির দু-একজনকে সঙ্গে নিয়ে বরাবরই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়ে আসছেন। নাজনীন বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সাল থেকে শুরু করেছি আবাসিক এবং অনাবাসিক দিয়ে, বর্তমানে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত আমাদের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫০০ এর উপরে, আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ৭০ জন, পুরুষ শিক্ষক ২৯ জন, মহিলা শিক্ষিকা ০৮ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ০২ জন, দপ্তরি ০১ জন ও নৈশো প্রহরী ০১ জন। সাংবাদিক নিয়ম অনিয়মের ব্যাপারে কথা বললে উনি বিষয়টি এড়িয়ে যান, বলেন আপনারা অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলেন, অথচ উনার উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল খালেক সরকারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের আবাসিক রুম গুলো ঘুরে যা দেখা গেল একটা ছোট্ট রুমে গাদাগাদি করে সাত থেকে আট জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক থাকেন, ১৬ থেকে ১৭ জনের ব্যবহারের জন্য রয়েছে একটি টয়লেট, বর্তমান সময়ে এই পরিবেশ দেখে মনে হল এ যেন এক ছোট্ট “হাজত খানা” এছাড়া প্রতিষ্ঠানের টিনশেড ক্যান্টিন এবং টিনশেড রান্নাঘর দেখে যে কেউ বুঝতে পারবেন তাদের খাবারের মান কেমন!
আবাসিক ছাত্রদের দিক চিন্তা ভাবনা করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই প্রতিষ্ঠানের ভিতরে দিয়েছেন একটি মুদি দোকান যেখানে সিগারেট থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাচ্চাদের প্রায় প্রতিটি জিনিস পাওয়া যায়।
স্থানীয় লোকজন ও একশ্রেণীর অভিভাবকের মতামত এই এলাকাতে মানসম্মত ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায়, বাড়ির পাশে বাধ্য হয়ে এই প্রতিষ্ঠানেই বাচ্চাকে পড়াশোনা করাচ্ছেন, তারা স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি সহ ম্যানেজিং কমিটির স্বেচ্ছাচারিতার অবসান চান।
এ বিষয়ে রংপুর জেলার বর্তমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিও) মোঃ নজরুল ইসলাম
এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডার গার্ডেন গুলো তদারকির ব্যাপারে একটু ব্যাতিক্রম তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
মোঃ রাকিবুল হাসান পরাগ, স্টাফ রিপোর্টার 



















