সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মুরাদ শেখের (৩৬) মরদেহ ১৬ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে ৯টায় তার মরদেহ নিজ বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ৬নং ওয়ার্ড দরাপেরডাঙ্গী গ্রামে আনা হলে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহত মুরাদ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ৬নং ওয়ার্ড দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে এক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান মুরাদ। সেখানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মুরাদ মারা যান। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র সম্পন্ন করতে সময় লাগায় ১৬ দিন পর তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুরাদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। সকাল ৯টায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সবার কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে ওঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে বেলা ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বাড়িতে মুরাদের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুটি শিশু কন্যা ও ১০ মাস বয়সী একজন পুত্রসন্তান রয়েছে। মুরাদের মরদেহ দেশে আনতে পরিবারের অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করে অবশেষে দীর্ঘ ১৬ দিন পর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।
সৌদি আরবে বসবাসরত গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া তোরাপ শেখের পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন সৌদি আরবে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠান। এ ছাড়া, অনেক প্রবাসীরা মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠাতে অনেক সহযোগিতা করেছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী 



















