সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ: কবরস্থান থেকে  বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার থেকে কোটিপতি: ওয়াসা কর্মকর্তা হারুনের অ’বৈধ সম্পদের পাহাড় ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে! খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি ৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

মানসিক ভারসাম্যহীন ভাতিজার শেষ সম্বল দখলে নিলো চাচা…

মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে জীবন। স্ত্রী ছেড়ে চলে গেছেন আগেই। এবার বাবার দেওয়া শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ময়নুলকে। তার আপন চাচা কছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও বসতঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ডোমার উপজেলার সদর ইউনিয়নের হুজুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল একসময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তবে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে তার জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। পরিবার-সংসার ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি হারাতে বসেন বাবার দেওয়া শেষ আশ্রয়টুকুও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়নুলের বাবা হেবা বিল ওয়াজের মাধ্যমে ছেলেকে ১০ শতক জমি দিয়েছিলেন। পরে সেই জমি কৌশলে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন ময়নুলের চাচা কছির উদ্দিন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির নামে থাকা জমি কীভাবে অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হলো? জানা গেছে, বিষয়টি টের পেয়ে ময়নুলের বাবা ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করেন। তবে মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ২০২০ সালে জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জমি দখলের পর ময়নুলের বসতঘরও ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকেই পাশের একটি বাঁশঝাড়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি। ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র রোদ কিংবা শীত—সবকিছুর মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে কাটছে তার দিনরাত। কখনো মানুষের বাড়িতে ছোটোখাটো কাজ করে, আবার কখনো অন্যের দেওয়া খাবারে চলছে তার জীবন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাতের আঁধারে ময়নুলের অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা ত্যানা-বিছানা ও চাটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কছির উদ্দিন কোনো বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। জানা গেছে, তিনি ফায়ার সার্ভিসে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। তার ছেলে আ. ছালাম একজন সরকারি কৃষি কর্মকর্তা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিনুর ইসলাম সুজন এবং ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম ময়নুলের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়া এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ডোমার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন কোনো ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রির সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি এবং ময়নুলের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ

মানসিক ভারসাম্যহীন ভাতিজার শেষ সম্বল দখলে নিলো চাচা…

আপডেট সময় ১০:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে জীবন। স্ত্রী ছেড়ে চলে গেছেন আগেই। এবার বাবার দেওয়া শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ময়নুলকে। তার আপন চাচা কছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও বসতঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ডোমার উপজেলার সদর ইউনিয়নের হুজুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল একসময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তবে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে তার জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। পরিবার-সংসার ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি হারাতে বসেন বাবার দেওয়া শেষ আশ্রয়টুকুও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়নুলের বাবা হেবা বিল ওয়াজের মাধ্যমে ছেলেকে ১০ শতক জমি দিয়েছিলেন। পরে সেই জমি কৌশলে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন ময়নুলের চাচা কছির উদ্দিন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির নামে থাকা জমি কীভাবে অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হলো? জানা গেছে, বিষয়টি টের পেয়ে ময়নুলের বাবা ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করেন। তবে মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ২০২০ সালে জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জমি দখলের পর ময়নুলের বসতঘরও ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকেই পাশের একটি বাঁশঝাড়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি। ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র রোদ কিংবা শীত—সবকিছুর মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে কাটছে তার দিনরাত। কখনো মানুষের বাড়িতে ছোটোখাটো কাজ করে, আবার কখনো অন্যের দেওয়া খাবারে চলছে তার জীবন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাতের আঁধারে ময়নুলের অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা ত্যানা-বিছানা ও চাটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কছির উদ্দিন কোনো বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। জানা গেছে, তিনি ফায়ার সার্ভিসে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। তার ছেলে আ. ছালাম একজন সরকারি কৃষি কর্মকর্তা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিনুর ইসলাম সুজন এবং ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম ময়নুলের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়া এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ডোমার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন কোনো ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রির সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি এবং ময়নুলের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।