সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

আত্মগোপনে থাকা আলোচিত ‘জর্দা শামীম’ রংপুরে গ্রেপ্তার

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৫:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫৫৬ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির আলোচিত ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ ওরফে জর্দা শামীম ও তার সঙ্গে থাকা অপর আসামি আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহমেদ (৫৫) ও আরিফ হোসেন (৪৫) ঝালকাঠি পৌর শহরের পূর্বকাঠপট্টি এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তারা ঝালকাঠি জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ব্যবসা ও রাজনৈতিক কারণে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এবং কলাবাগানে বসবাস করতেন।

শামীম আহমেদ উত্তর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি। ২০২৩ সালে তিনি ঝালকাঠি জেলার সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হয়েছিলেন।

জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানা ও রামপুরা থানায় একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি একজন এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। অভিযুক্ত অপর আসামি আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা রয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠির শামীম আহমেদ এলাকায় ‘জর্দা শামীম’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। মূলত তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও তার কর্মকাণ্ড এবং জীবনযাপন নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার ইন্ধন ছিল। বিশেষ করে ঝালকাঠির প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতাকে পুঁজি করে তিনি নানা কাজ হাসিল করতেন বলে অভিযোগ আছে।

নিজেকে গরিবের সুলতান দাবি করা শামীম আহমেদ সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেও আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ রয়েছে।

শামীম আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক অসহায় কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। সেই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এছাড়া চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নিজ ভাইদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি ও অফিসে হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর মতো ঘটনার জন্ম দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন শামীম আহমেদ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

আত্মগোপনে থাকা আলোচিত ‘জর্দা শামীম’ রংপুরে গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৫:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ঝালকাঠির আলোচিত ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ ওরফে জর্দা শামীম ও তার সঙ্গে থাকা অপর আসামি আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহমেদ (৫৫) ও আরিফ হোসেন (৪৫) ঝালকাঠি পৌর শহরের পূর্বকাঠপট্টি এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তারা ঝালকাঠি জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ব্যবসা ও রাজনৈতিক কারণে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এবং কলাবাগানে বসবাস করতেন।

শামীম আহমেদ উত্তর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি। ২০২৩ সালে তিনি ঝালকাঠি জেলার সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হয়েছিলেন।

জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানা ও রামপুরা থানায় একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি একজন এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। অভিযুক্ত অপর আসামি আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা রয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠির শামীম আহমেদ এলাকায় ‘জর্দা শামীম’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। মূলত তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও তার কর্মকাণ্ড এবং জীবনযাপন নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার ইন্ধন ছিল। বিশেষ করে ঝালকাঠির প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতাকে পুঁজি করে তিনি নানা কাজ হাসিল করতেন বলে অভিযোগ আছে।

নিজেকে গরিবের সুলতান দাবি করা শামীম আহমেদ সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেও আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ রয়েছে।

শামীম আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক অসহায় কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। সেই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এছাড়া চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নিজ ভাইদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি ও অফিসে হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর মতো ঘটনার জন্ম দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন শামীম আহমেদ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।