সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

১০বছর ধরে শ্রীপুর পিআইও অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির মচ্ছব চালাচ্ছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী অমিতাব সরকার!

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট পদের জনবলের চাকরিও সমাপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঘটছে উল্টো ঘটনা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একই দপ্তরে খুঁটির জোর খাটিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী অমিতাব সরকার। অভিযোগ উঠেছে, পিআইওর সাথে যোগসাজশ করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পান অমিতাব সরকার। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় (ত্রাণ শাখা) থেকে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট তারিখে (স্মারক নং-৩৭৭) তার পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো এক পত্রে দেখা যায়, তিনি ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কাজে যোগদান করেছিলেন।

১০ বছর আগে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য নিয়োগ পেলেও সেই প্রকল্পের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ শেষে তার অব্যাহতি পাওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি এখনো ওই দপ্তরে কর্মরত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশক একই স্টেশনে থাকার সুবাদে পিআইও অফিসের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন অমিতাব সরকার। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এবং স্থানীয় পিআইওর প্রচ্ছন্ন সহায়তায় তিনি এই “অবৈধ” অবস্থান ধরে রেখেছেন। সরকারি বেতন কাঠামো বা প্রকল্পের কোনো বৈধ ভিত্তি ছাড়াই কীভাবে একজন ব্যক্তি এতদিন একটি সরকারি দপ্তরে বহাল থাকেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়:

  • যোগদানের তারিখ: ০৭/১২/২০১৫ খ্রি.।

  • স্মারক নম্বর: ৫১.০১.৫৫৯৫.০০০.১৯.০৪৯.২০১৫-১৬/৩৭৭।

  • পুলিশ ভেরিফিকেশন: ২০১৬ সালে পুলিশ তদন্তের প্রক্রিয়া চললেও পরবর্তীতে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। তবে অফিসের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, অমিতাব সরকার অফিসের অনেক “গোপন লেনদেন” ও কাগজপত্রের কাজ দেখাশোনা করেন বলে তাকে সরানো হচ্ছে না।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীভাবে একই কর্মস্থলে ১০ বছর পার করেন? সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প কি তবে এই ধরণের অনিয়মের জালে আটকা? শ্রীপুরের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এব্যাপারে অমিতাব সরকারের ফোনে ফোন করলে ফোন রিসিভ হয়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

১০বছর ধরে শ্রীপুর পিআইও অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির মচ্ছব চালাচ্ছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী অমিতাব সরকার!

আপডেট সময় ০১:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট পদের জনবলের চাকরিও সমাপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঘটছে উল্টো ঘটনা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একই দপ্তরে খুঁটির জোর খাটিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী অমিতাব সরকার। অভিযোগ উঠেছে, পিআইওর সাথে যোগসাজশ করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পান অমিতাব সরকার। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় (ত্রাণ শাখা) থেকে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট তারিখে (স্মারক নং-৩৭৭) তার পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো এক পত্রে দেখা যায়, তিনি ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কাজে যোগদান করেছিলেন।

১০ বছর আগে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য নিয়োগ পেলেও সেই প্রকল্পের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ শেষে তার অব্যাহতি পাওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি এখনো ওই দপ্তরে কর্মরত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশক একই স্টেশনে থাকার সুবাদে পিআইও অফিসের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন অমিতাব সরকার। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এবং স্থানীয় পিআইওর প্রচ্ছন্ন সহায়তায় তিনি এই “অবৈধ” অবস্থান ধরে রেখেছেন। সরকারি বেতন কাঠামো বা প্রকল্পের কোনো বৈধ ভিত্তি ছাড়াই কীভাবে একজন ব্যক্তি এতদিন একটি সরকারি দপ্তরে বহাল থাকেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়:

  • যোগদানের তারিখ: ০৭/১২/২০১৫ খ্রি.।

  • স্মারক নম্বর: ৫১.০১.৫৫৯৫.০০০.১৯.০৪৯.২০১৫-১৬/৩৭৭।

  • পুলিশ ভেরিফিকেশন: ২০১৬ সালে পুলিশ তদন্তের প্রক্রিয়া চললেও পরবর্তীতে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। তবে অফিসের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, অমিতাব সরকার অফিসের অনেক “গোপন লেনদেন” ও কাগজপত্রের কাজ দেখাশোনা করেন বলে তাকে সরানো হচ্ছে না।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীভাবে একই কর্মস্থলে ১০ বছর পার করেন? সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প কি তবে এই ধরণের অনিয়মের জালে আটকা? শ্রীপুরের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এব্যাপারে অমিতাব সরকারের ফোনে ফোন করলে ফোন রিসিভ হয়নি।