মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগে অন্তত ৪০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. শামিউল ইসলাম সাদীসহ অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নথি তলব করে দুদক বারবার নোটিশ দিলেও পাত্তাই দেননি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে নথি সরবরাহ না করলে দুদকের আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে সবশেষ চিঠি দেওয়া হলে নথিপত্র সরবরাহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এসব নথির তথ্য পর্যালোচনা করে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। কমিশনের অনুমোদনের পরই জানা যাবে অভিযোগসংশ্লিষ্টরা অপরাধী কি না।’
জানা যায়, করোনার সময় জরুরিভিত্তিতে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ১৮০০ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সে সময় ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ঘুষের বিনিময়ে ১৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ২০২৪ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে বিশেষ টিম অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নথিপত্র তলবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কয়েক দফা নোটিশ দেন সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন। নোটিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ১৬১ জন পরীক্ষার্থীর আবেদনপত্র, প্রিলি-লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হাজিরা শিট, প্রিলি-লিখিত পরীক্ষায় মূল্যায়িত খাতা, ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হাজিরা শিট ও প্রাপ্ত নম্বর, চূড়ান্ত ফলাফলের শিট, চূড়ান্ত নিয়োগপত্র, নিয়োগসংক্রান্ত কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়ে থাকলে সেই তদন্ত প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়।
কয়েক দফা নোটিশের কোনো সাড়া না পেয়ে গত মাসে (চলতি বছরের এপ্রিলে) চূড়ান্ত তাগিদসহ নোটিশ দেয় দুদক। এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইনের ১৯(৩) ধারা মোতাবেক দুদকের ক্ষমতা প্রয়োগে কোনো ব্যক্তি বাধা দিলে বা কোনো নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে। এই নোটিশের পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















