ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

রাবির ১১ হলে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি 

রাবির ১১ হলে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, ছাত্রদল বলছে হাস্যকর । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছেলেদের ১১টি আবাসিক হলে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ কমিটি প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব স্বাক্ষরিত এসব কমিটির তালিকায় প্রত্যেকটি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ সংগঠনটি এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘অরাজকতা’ সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও মনে করেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতৃত্ব পলাতক। তারা শিক্ষার্থীদের থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় কমিটি ঘোষণা নিছকই হাস্যকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। আমরা তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছি না।’
ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ ক্যাম্পাসকে ‘অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী একটি সংগঠনের হল কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ছাড়া যাদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে তারা সবাই ক্যাম্পাসে চিহ্নিত অপরাধী। তারা জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের ওপর সন্ত্রাসী হামলাসহ চব্বিশ পূর্ববর্তী সময়ে সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্ছনাসহ ছাত্র নির্যাতনের মতো নানা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। ছাত্রলীগের অনেকেই এখনও ক্যাম্পাসে বিচরণ করছে। মাদক বাণিজ্যসহ নানা রকম অপকর্মও করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশের উচিত ছাত্রলীগের এসব সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’ এর মুখপাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক শহীদের রক্ত হাতে নিয়ে ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের এদেশে রাজনীতি করার প্রাসঙ্গিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। জুলাইয়ে ঘটা গণহত্যার বিচার এখনও হয়নি। নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ একপ্রকার দুঃসাহসই বলা যায়। তবে বাংলাদেশের মানুষ জুলাইকে এখনও ভুলে যায়নি, তাই তাদের এসব কর্মকাণ্ড এদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
‘নিষিদ্ধ’ কোনও সংগঠন ক্যাম্পাসে কোনও ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অনলাইন বা ফেসবুকে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। তবে প্রকাশ্যে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ নেই। তাদের অনলাইনকেন্দ্রিক বিষয়গুলোও আমরা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাবো। যথাযথ বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা কোনও কিছু করতে পারবে না।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

রাবির ১১ হলে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি 

আপডেট সময় ১০:২৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
রাবির ১১ হলে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, ছাত্রদল বলছে হাস্যকর । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছেলেদের ১১টি আবাসিক হলে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ কমিটি প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব স্বাক্ষরিত এসব কমিটির তালিকায় প্রত্যেকটি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ সংগঠনটি এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘অরাজকতা’ সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও মনে করেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতৃত্ব পলাতক। তারা শিক্ষার্থীদের থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় কমিটি ঘোষণা নিছকই হাস্যকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। আমরা তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছি না।’
ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ ক্যাম্পাসকে ‘অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী একটি সংগঠনের হল কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ছাড়া যাদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে তারা সবাই ক্যাম্পাসে চিহ্নিত অপরাধী। তারা জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের ওপর সন্ত্রাসী হামলাসহ চব্বিশ পূর্ববর্তী সময়ে সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্ছনাসহ ছাত্র নির্যাতনের মতো নানা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। ছাত্রলীগের অনেকেই এখনও ক্যাম্পাসে বিচরণ করছে। মাদক বাণিজ্যসহ নানা রকম অপকর্মও করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশের উচিত ছাত্রলীগের এসব সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’ এর মুখপাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক শহীদের রক্ত হাতে নিয়ে ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের এদেশে রাজনীতি করার প্রাসঙ্গিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। জুলাইয়ে ঘটা গণহত্যার বিচার এখনও হয়নি। নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ একপ্রকার দুঃসাহসই বলা যায়। তবে বাংলাদেশের মানুষ জুলাইকে এখনও ভুলে যায়নি, তাই তাদের এসব কর্মকাণ্ড এদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
‘নিষিদ্ধ’ কোনও সংগঠন ক্যাম্পাসে কোনও ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অনলাইন বা ফেসবুকে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। তবে প্রকাশ্যে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ নেই। তাদের অনলাইনকেন্দ্রিক বিষয়গুলোও আমরা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাবো। যথাযথ বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা কোনও কিছু করতে পারবে না।