সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে কেনাকাটার ধরন। এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে উত্তরবঙ্গেও। প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও শহরের গ্রাহকদের দোরগোড়ায় টাটকা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘তিস্তা ই-মার্ট’। এটি শুধু বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের এক মানবিক প্রয়াস।
সরাসরি বাগান থেকে গ্রাহকের হাতে:
তিস্তা ই-মার্টের মূল বৈশিষ্ট্য মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ। সম্প্রতি স্থানীয় চাষিদের উৎপাদিত বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম সরাসরি বাগান থেকে সংগ্রহ করে শহরের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে কৃষক পাচ্ছেন ন্যায্য দাম, আর গ্রাহক পাচ্ছেন কেমিক্যালমুক্ত পণ্যের নিশ্চয়তা।
শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট প্যাকেজ’:
কারমাইকেল কলেজ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে শিগগিরই চালু হচ্ছে বিশেষ ‘স্টুডেন্ট প্যাকেজ’। এর আওতায় মাছ, মাংস ও টাটকা শাক-সবজি সাশ্রয়ী মূল্যে সরাসরি মেস বা হলের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে। ব্যস্ত শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ।
আসছে হাড়িভাঙ্গা আমের মৌসুম:
আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাড়িভাঙ্গা আম নিয়ে বড় পরিসরে কাজ শুরু করবে তিস্তা ই-মার্ট। সরাসরি বাগান থেকে বাছাই করা প্রিমিয়াম মানের আম দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে অনলাইনে অর্ডার করতে পারবেন গ্রাহকরা।
কর্মসংস্থান ও সামাজিক দায়বদ্ধতা:
তিস্তা পাড়ের গ্রামীণ তরুণদের ডেলিভারি ও লজিস্টিক কাজে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, তিস্তা ই-মার্ট কেবল একটি ই-কমার্স সাইট নয়; এটি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার নতুন মাধ্যম এবং সফলতার গল্প।
উদ্যোক্তারা জানান, আমাজন বা দারাজের মতো বিশ্বমানের সেবা স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ‘তিস্তা ই-মার্ট’ আগামীতে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।
মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (হৃদয়), গংগাচড়া,রংপুর 



















