জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে দক্ষিণ সাকোঁয়াপাড়া মদিনাতুল উলুম মডেল মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে(৮) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ওই মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক ছাইদুর রহমানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ।
সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রবিবার রাতে ভূক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নামে থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন। সাইদুর রহমান উপজেলার হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাকোঁয়া পাড়া গ্রামের জুরান আলী মিস্ত্রীর ছেলে।
মামলার তথ্যমতে, ভূক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের লংকারচর গ্রামের দিন মুজুর। ভূক্তভোগী বাড়ির কাছের দক্ষিণ সাকোয়াপাড়া মদিনাতুল উলুম নূরানি মডেল মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। প্রতিদিন অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে সে মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। ২৬ এপ্রিল দুপুরে মাদ্রাসা ছুটি হলে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক সাইদুর রহমান ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীকে তার বাড়ির ভিতরে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সে দিন শিক্ষক সাইদুর রহমানের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের ভেতরে নিয়ে ভূক্তভোগীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় দরজার বাইরে শব্দ হলে সাইদুর রহমান ঘরের এক কোণে লুকায় এবং ভূক্তভোগী দৌঁড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
পরে বাড়িতে ফিরে ভূক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। এতে ভূক্তভোগীর বাবা সন্তুষ্ট না হওয়ায় গত রবিবার রাতে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন।
ভূক্তভোগীর বাবা বলেন, আমার ছোট মেয়ে তাকে বাড়ির পাশের মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছি। এমন ঘটনা ঘটবে তা ভাবতে পারিনি। আমি স্থানীয় ভাবে এর মিমাংসা চাইনা। আমি আইনের মাধ্যমে এর সুবিচার চাই। যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনর্চাজ আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা হয়েছে। পুলিশ ওই মাদ্রাসা শিক্ষক সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মোঃ রামু মিয়া, দেওয়ানগঞ্জ(জামালপুর) 



















