অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা স্বপন কুমার রায় (৪৮)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট।
তথ্য-প্রযুক্তি ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে নীলফামারীর এই ব্যবসায়ীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জনৈক মোহাম্মদ সামালকে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ভুয়া নম্বর থেকে যোগাযোগ করে প্রতারক চক্রটি উচ্চ বেতনে চাকরির স্বপ্ন দেখায়।
গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। টাকা নেওয়ার পর সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে ভুক্তভোগী নিঃস্ব হয়ে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআই গ্রহণ করার পর তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই (নিঃ) মোঃ শাহাদাত হোসেন। তদন্তে দেখা যায়, নীলফামারীর জলঢাকা থানার ‘উৎসব ফার্মেসী’র মালিক স্বপন কুমার রায় কৌশলে অন্যদের নামে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার টাকা লেনদেন করছিলেন। এর মধ্যে ২৯ লক্ষ ৩২ হাজার ১৪১ টাকা লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং পিবিআই জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমার নেতৃত্বে গত ১ মে ভোর ৫টায় ভাদুঘর গ্যাসফিল্ড এলাকা থেকে স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামি স্বপন কুমার রায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আশরাফুল আলমের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি এবং তার সহযোগী পলাতক ডিএসও মোঃ জাবেদুল ইসলাম মিলে এই বিশাল অংকের টাকা নগদায়ন করে আত্মসাৎ করেন বলে জানান।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অধীনে দায়ের করা এই মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ক্রাইম রিপোর্ট মানিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া 
























