রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার মিল্টনের বিরুদ্ধে হয়রানি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের আমরুল বাড়ি পলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ হোসেন আলী তার বড় ভাই মোঃ আবু হাসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পার্শ্ববর্তী আমরুলবাড়ী হাটখোলাপাড়া এলাকার মোঃ রিপন মিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জেরে গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবু হাসানকে একটি অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে হোসেন আলী বিষয়টি বদরগঞ্জ থানার ওসিকে অবহিত করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেফতারের পরিবর্তে ওসি হাসান জাহিদ সরকার মিল্টন বদরগঞ্জ পৌরসভার লিচুবাগান এলাকার মোঃ তানভীর আহমেদ তমালকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ওসি ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা তমালের বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে ধরার চেষ্টা করেন। অথচ তমালের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন হোসেন আলী ও তার ভাইয়ের পরিবার। তারা জানান, তমালকে তারা চেনেন না এবং কখনো দেখেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোসেন আলী ফোনে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওসি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো তাকে ধমক দিয়ে ফোন কেটে দেন।
পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট হয়ে হোসেন আলী বিষয়টি রংপুরের পুলিশ সুপারকে ফোনে জানান এবং পরবর্তীতে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ওসির বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন কেন্দ্র থেকে ঘুষ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে নিরাপত্তার আশঙ্কায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শফিউল মন্ডল (রংপুর) প্রতিনিধি 






















