বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় মাছের ঘের দখল ও লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করার পর পরবর্তীতে তার কর্মচারীদের মারধর, পুনরায় মাছ লুটপাট এবং ঘেরের বাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ঘেরের বাসাটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ঘটনার দিনই তিনি রামপাল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের গিলাতলা এলাকার বাসিন্দা শেখ ইমরোজ দীর্ঘদিন ধরে নিজ মালিকানাধীন মাছের ঘেরে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু পূর্ব বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তার ঘের দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শেখ রাজু,হাওলাদার ইকবাল হোসেন বাবু,সরদার হুরাই,সরদার নাইমসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে তার মাছের ঘেরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ঘেরের পাহারাদার কর্মচারীদের মারধর করে, বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত মাছ লুটপাট করে এবং ঘেরের বাসস্থানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে প্রায় ৪০ কেজি চিংড়ি লুটপাট করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী রামপাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। কিন্তু পুনরায় এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে এবং ঘের দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
ভুক্তভোগী তার সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রামপাল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রামপাল, বাগেরহাট প্রতিনিধি 



















