রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের হিমাগার খাত বর্তমানে জ্বালানি তেল ডিজেলের তীব্র সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং একই সঙ্গে ডিজেলের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে হিমাগারগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
হিমাগার সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের মাধ্যমে শীতলীকরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে হয়, যা সম্পূর্ণভাবে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান সংকটে পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। এতে করে হিমাগারের কুলিং সিস্টেমে ব্যবহৃত এমোনিয়া গ্যাস সঠিকভাবে সঞ্চালিত হচ্ছে না। ফলস্বরূপ নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যা আলু সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমাগারের ভেতরে তাপমাত্রা সাধারণত ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হয়। এমোনিয়া গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে এবং দ্রুত আলুতে পচন ধরতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা ব্যবসায়ী ও কৃষক উভয়ের জন্যই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।
রংপুরে শাহজালাল হিমাগার, রংপুর হিমাগার, এমএনটি হিমাগার ও হোমল্যান্ড হিমাগারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, “বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকট একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় আমরা কার্যত অচল অবস্থায় পড়েছি। দ্রুত সমাধান না হলে আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না এবং বড় ধরনের ক্ষতি অনিবার্য হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মোনোয়ারুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, সমস্যা সমাধানে দ্রুত কাজ চলছে এবং অচিরেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এ সংকট নিয়ে ডিজেল সরবরাহকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে হিমাগার খাতের পাশাপাশি দেশের আলু উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
মোঃ রাকিবুল হাসান পরাগ, স্টাফ রিপোর্টার 



















