ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুলের সম্পদের পাহাড়, দুদকে অভিযোগ

ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন এবং নৈতিক স্খলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যেখানে তার শত শত একর জমি, বিলাসবহুল ভবন এবং বেনামি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রামের বাড়িতে ৪ কোটির ট্রিপ্লেক্স, শহরে ১০ তলা ভবন

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার কলাপাড়া গ্রামে তৌহিদুল ইসলাম নির্মাণ করেছেন প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ট্রিপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় তার একটি ১০ তলা বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন রয়েছে, যেখানে তার বোনজামাতা (একজন সেনা কর্মকর্তা) বসবাস করেন। কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে বোনের বাড়ির পাশে আরও একটি চারতলা ভবন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদরে তার নামে নিজস্ব বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে।

তৌহিদুল ইসলামের সম্পদের একটি বড় অংশ ছড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অষ্টগ্রামের বড়হাওর মৌজায় ৭০০ একর এবং ইটনা থানার কাটাখাল মৌজায় ৬০০ একর—অর্থাৎ মোট ১৩০০ একর জমির মালিকানা রয়েছে তার বা তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া নিজ গ্রামে আড়াইশ গরুর একটি বিশাল ডেইরি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। বাজিতপুর ও কুলিয়ারচর এলাকায় তার বিলাসবহুল বাগানবাড়ির অস্তিত্বের কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে।

তদন্ত এড়াতে ডিআইজি তৌহিদুল তার নিকটাত্মীয়দের নামেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে: খুলনায় শ্বশুরের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল একটি মাছের ঘের। নোয়াখালীতে ব্যাংকার বোনের মাধ্যমে পরিচালিত ২ একরের সুপারি বাগান।

​আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগমতে, ২০২০ সালে স্নেহা আক্তার (ছদ্মনাম) নামে এক কিশোরীকে বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের ফলে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক (আইজিপি প্রিজন)-এর কাছে অভিযোগ করা হলেও, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ভুক্তভোগীকে চাপের মুখে রেখে নামমাত্র সমঝোতা করা হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই কন্যাসন্তান ও তার মা মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগটি আমাদের হস্তগত হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করবে।”

অভিযুক্ত ডিআইজি তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, এগুলো সত্য নয়। আমি পারিবারিকভাবে সম্পদের মালিক। আমার চাকরিতে যোগদানের সময়ই সম্পদের হিসাব সরকারকে দেওয়া আছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুলের সম্পদের পাহাড়, দুদকে অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৫৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন এবং নৈতিক স্খলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যেখানে তার শত শত একর জমি, বিলাসবহুল ভবন এবং বেনামি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রামের বাড়িতে ৪ কোটির ট্রিপ্লেক্স, শহরে ১০ তলা ভবন

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার কলাপাড়া গ্রামে তৌহিদুল ইসলাম নির্মাণ করেছেন প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ট্রিপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় তার একটি ১০ তলা বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন রয়েছে, যেখানে তার বোনজামাতা (একজন সেনা কর্মকর্তা) বসবাস করেন। কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে বোনের বাড়ির পাশে আরও একটি চারতলা ভবন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদরে তার নামে নিজস্ব বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে।

তৌহিদুল ইসলামের সম্পদের একটি বড় অংশ ছড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অষ্টগ্রামের বড়হাওর মৌজায় ৭০০ একর এবং ইটনা থানার কাটাখাল মৌজায় ৬০০ একর—অর্থাৎ মোট ১৩০০ একর জমির মালিকানা রয়েছে তার বা তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া নিজ গ্রামে আড়াইশ গরুর একটি বিশাল ডেইরি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। বাজিতপুর ও কুলিয়ারচর এলাকায় তার বিলাসবহুল বাগানবাড়ির অস্তিত্বের কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে।

তদন্ত এড়াতে ডিআইজি তৌহিদুল তার নিকটাত্মীয়দের নামেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে: খুলনায় শ্বশুরের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল একটি মাছের ঘের। নোয়াখালীতে ব্যাংকার বোনের মাধ্যমে পরিচালিত ২ একরের সুপারি বাগান।

​আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগমতে, ২০২০ সালে স্নেহা আক্তার (ছদ্মনাম) নামে এক কিশোরীকে বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের ফলে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক (আইজিপি প্রিজন)-এর কাছে অভিযোগ করা হলেও, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ভুক্তভোগীকে চাপের মুখে রেখে নামমাত্র সমঝোতা করা হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই কন্যাসন্তান ও তার মা মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগটি আমাদের হস্তগত হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করবে।”

অভিযুক্ত ডিআইজি তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, এগুলো সত্য নয়। আমি পারিবারিকভাবে সম্পদের মালিক। আমার চাকরিতে যোগদানের সময়ই সম্পদের হিসাব সরকারকে দেওয়া আছে।