ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়া-ইউরোপের ভুয়া ভিসা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি

অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা ও মানবপাচারের অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। এ সময় ভিসা তৈরির বিভিন্ন ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা জব্দ করা হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি যৌথ অভিযানিক দল রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সাকিউর রহমান ওরফে সুমন (৩৭) এবং মো. কোরবান আলী (৩০)।

এ বিষয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা এসআরএস ইন্টারন্যাশনাল বিডি নামে একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে লোক পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করত। ভুক্তভোগীদের বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।

মামলার এজাহার ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এক ভুক্তভোগী আত্মীয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে জানতে পেরে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির জন্য ২০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে মোট ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আসামিদের দেন। টাকা নেওয়ার পর আসামিরা তাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে “অস্ট্রেলিয়া” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে। গত বছরের ২২ মে তাকে একটি অফিসে নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয় এবং কিছু কাগজপত্র দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিমানের টিকিট দেওয়ার কথা বলে বারবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, এক পর্যায়ে টিকিটের কথা বলে আরও ৯৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যার মধ্যে ভুক্তভোগী বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দেন। পরে বারবার যোগাযোগ করলেও আসামিরা দেখা করতে রাজি হয়নি। পরে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, একই কৌশলে আরও অনেকের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া-ইউরোপের ভুয়া ভিসা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা ও মানবপাচারের অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। এ সময় ভিসা তৈরির বিভিন্ন ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা জব্দ করা হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি যৌথ অভিযানিক দল রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সাকিউর রহমান ওরফে সুমন (৩৭) এবং মো. কোরবান আলী (৩০)।

এ বিষয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা এসআরএস ইন্টারন্যাশনাল বিডি নামে একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে লোক পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করত। ভুক্তভোগীদের বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।

মামলার এজাহার ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এক ভুক্তভোগী আত্মীয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে জানতে পেরে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির জন্য ২০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে মোট ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আসামিদের দেন। টাকা নেওয়ার পর আসামিরা তাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে “অস্ট্রেলিয়া” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে। গত বছরের ২২ মে তাকে একটি অফিসে নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয় এবং কিছু কাগজপত্র দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিমানের টিকিট দেওয়ার কথা বলে বারবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, এক পর্যায়ে টিকিটের কথা বলে আরও ৯৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যার মধ্যে ভুক্তভোগী বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দেন। পরে বারবার যোগাযোগ করলেও আসামিরা দেখা করতে রাজি হয়নি। পরে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, একই কৌশলে আরও অনেকের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে।