ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্রমিক হত্যা, ৪ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক শ্রমিককে হত্যার দায়ে করা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবীর সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন এবং আবু তাহের (৪৭) নামের পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মিরপুর উপজেলার মিটন পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহিন প্রামানিকের ছেলে আসাদুল প্রামানিক (৪৪), মো. মসলেম মোল্লার ছেলে আবু তাহের (৪৭), আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন (৫৫) এবং ওমর আলীর ছেলে মো. মিলন হোসেন (৩৫)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবদমান দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। প্রায়ই দুপক্ষের মধ্যে হামলা মামলা, মারধর-ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রতিনিয়তই তারা একে অপরকে ফাঁসাতে মারধরসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিক ঘটনার একটি হলো এই মামলার বাদি সুমী খাতুনের স্বামী কৃষি শ্রমিক সাহাবুল মণ্ডলকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

বাদি সুমী খাতুন তার স্বামী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াপাগা গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুল ইসলাম মণ্ডলকে নিয়ে মিরপুর উপজেলার মিটন পশ্চিমপাড়া গ্রামে ছোট বোন ওমান প্রবাসী কাজলী খাতুনের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টায় বাজার করার উদ্দেশে শিশুপুত্র সাব্বিরকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ঘণ্টা দুয়েক পর ছেলে সাব্বির বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলেও সাহাবুল মণ্ডল আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টায় নিকটস্থ বুড়াপাড়া প্রাইমারি স্কুলের পিছনে একটি ধইঞ্চা ক্ষেত্রের আইলের উপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমী খাতুন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে মিরপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক এসএম জাবীদ হাসান ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, মিরপুর থানার এই হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সাজার আদেশ দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্রমিক হত্যা, ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৬:১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক শ্রমিককে হত্যার দায়ে করা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবীর সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন এবং আবু তাহের (৪৭) নামের পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মিরপুর উপজেলার মিটন পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহিন প্রামানিকের ছেলে আসাদুল প্রামানিক (৪৪), মো. মসলেম মোল্লার ছেলে আবু তাহের (৪৭), আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন (৫৫) এবং ওমর আলীর ছেলে মো. মিলন হোসেন (৩৫)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবদমান দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। প্রায়ই দুপক্ষের মধ্যে হামলা মামলা, মারধর-ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রতিনিয়তই তারা একে অপরকে ফাঁসাতে মারধরসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিক ঘটনার একটি হলো এই মামলার বাদি সুমী খাতুনের স্বামী কৃষি শ্রমিক সাহাবুল মণ্ডলকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

বাদি সুমী খাতুন তার স্বামী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াপাগা গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুল ইসলাম মণ্ডলকে নিয়ে মিরপুর উপজেলার মিটন পশ্চিমপাড়া গ্রামে ছোট বোন ওমান প্রবাসী কাজলী খাতুনের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টায় বাজার করার উদ্দেশে শিশুপুত্র সাব্বিরকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ঘণ্টা দুয়েক পর ছেলে সাব্বির বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলেও সাহাবুল মণ্ডল আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টায় নিকটস্থ বুড়াপাড়া প্রাইমারি স্কুলের পিছনে একটি ধইঞ্চা ক্ষেত্রের আইলের উপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমী খাতুন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে মিরপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক এসএম জাবীদ হাসান ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, মিরপুর থানার এই হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সাজার আদেশ দেন।