ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

টাঙ্গাইলে প্রত্যাশা ভেঙে ঈদের বেচাকেনা কম

ঈদকে সামনে রেখে নতুন জামা-কাপড় কেনা বাঙ্গালিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। টাঙ্গাইলে এ বছর ঈদের জামা- কাপড় কেনায় ভাটা পড়েছে। টাঙ্গাইলের শপিংমল ও বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি।
ঈদ মানেই ব্যবসায়ীদের বছরের সবচেয়ে বড় বেচাকেনার সময়। এ বছর টাঙ্গাইলে বেচাকেনার প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের কাছে পন্য মজুদ থাকলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচা কেনা অনেক কমে এসেছে।
বুধবার টাঙ্গাইলে বিভিন্ন বিপণিবিতানে ঈদের কেনাকাটায় তেমন ভিড় চোখে পড়েনি । টাঙ্গাইল প্লাজা, নিরালা মোড়সহ শহরের প্রধান শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে কম দেখা গেছে ।

টাঙ্গাইল প্লাজার ‘শ্রীনিকেতন’-এর এক স্বত্বাধিকারী আনন্দ সাহা জানান, “এটি আমাদের অনেক পুরনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । ঈদের সময় আমরা নিজেরাই কারিগরের মাধ্যমে অধিকাংশ শাড়ির ডিজাইন তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি । ঈদের জন্য অনেক নতুন কালেকশন তুলেছি। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় পন্য পড়ে আছে।
ক্রেতা রুহুল আমিন জানান, সংসারে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে ঈদের কেনা কাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু অতি প্রয়োজনীয় পোশাক কেনা কাটা করতে হচ্ছে।
জলি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মাসুম জানান, ঈদ আমাদের সবচেয়ে বড় মৌসুম। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অনেক মানুষ ঈদের কেনা কাটায় কাটছাঁট করেছেন।
লতিফ খান জানান, সংসারে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে আগের মতো কেনা কাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে পোশাকের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই সামর্থ্যের মধ্যে কেনা কাটা করতে হচ্ছে।
‘প্রান্ত শার্ট গ্যালারি’র স্বত্বাধিকারী আঃ সাত্তার জানান, “এবার ঈদের বাজার মন্দার অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ। মধ্যপ্রচ্যের যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ঈদের আমাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
টাঙ্গাইলের শাড়ী রাজধানী ঢাকা সহ দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাতে বোনা শাড়ী বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। টাঙ্গাইলের করটিয়া হাট ও পাথরাইল তাতের শাড়ী দেশে প্রানপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
টাঙ্গাইলের পাথরাইল বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী উত্তম বসাক জানান, এ বছর ঈদে কাপড় বেচা কেনা অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা বাজারে এলেও কেনাকাটা কম করছেন।
ঈদের আনন্দের অন্যতম অংশ কেনাকাটা করা। অর্থনৈতিক চাপে এ বছর ঈদের কেনা কাটা অনেক কমে গেছে। ঈদের আনন্দ ঘিরে বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য কমার ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের স্হবিরতা দেখা দিয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

টাঙ্গাইলে প্রত্যাশা ভেঙে ঈদের বেচাকেনা কম

আপডেট সময় ০৭:২৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদকে সামনে রেখে নতুন জামা-কাপড় কেনা বাঙ্গালিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। টাঙ্গাইলে এ বছর ঈদের জামা- কাপড় কেনায় ভাটা পড়েছে। টাঙ্গাইলের শপিংমল ও বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি।
ঈদ মানেই ব্যবসায়ীদের বছরের সবচেয়ে বড় বেচাকেনার সময়। এ বছর টাঙ্গাইলে বেচাকেনার প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের কাছে পন্য মজুদ থাকলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচা কেনা অনেক কমে এসেছে।
বুধবার টাঙ্গাইলে বিভিন্ন বিপণিবিতানে ঈদের কেনাকাটায় তেমন ভিড় চোখে পড়েনি । টাঙ্গাইল প্লাজা, নিরালা মোড়সহ শহরের প্রধান শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে কম দেখা গেছে ।

টাঙ্গাইল প্লাজার ‘শ্রীনিকেতন’-এর এক স্বত্বাধিকারী আনন্দ সাহা জানান, “এটি আমাদের অনেক পুরনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । ঈদের সময় আমরা নিজেরাই কারিগরের মাধ্যমে অধিকাংশ শাড়ির ডিজাইন তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি । ঈদের জন্য অনেক নতুন কালেকশন তুলেছি। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় পন্য পড়ে আছে।
ক্রেতা রুহুল আমিন জানান, সংসারে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে ঈদের কেনা কাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু অতি প্রয়োজনীয় পোশাক কেনা কাটা করতে হচ্ছে।
জলি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মাসুম জানান, ঈদ আমাদের সবচেয়ে বড় মৌসুম। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অনেক মানুষ ঈদের কেনা কাটায় কাটছাঁট করেছেন।
লতিফ খান জানান, সংসারে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে আগের মতো কেনা কাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে পোশাকের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই সামর্থ্যের মধ্যে কেনা কাটা করতে হচ্ছে।
‘প্রান্ত শার্ট গ্যালারি’র স্বত্বাধিকারী আঃ সাত্তার জানান, “এবার ঈদের বাজার মন্দার অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ। মধ্যপ্রচ্যের যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ঈদের আমাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
টাঙ্গাইলের শাড়ী রাজধানী ঢাকা সহ দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাতে বোনা শাড়ী বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। টাঙ্গাইলের করটিয়া হাট ও পাথরাইল তাতের শাড়ী দেশে প্রানপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
টাঙ্গাইলের পাথরাইল বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী উত্তম বসাক জানান, এ বছর ঈদে কাপড় বেচা কেনা অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা বাজারে এলেও কেনাকাটা কম করছেন।
ঈদের আনন্দের অন্যতম অংশ কেনাকাটা করা। অর্থনৈতিক চাপে এ বছর ঈদের কেনা কাটা অনেক কমে গেছে। ঈদের আনন্দ ঘিরে বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য কমার ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের স্হবিরতা দেখা দিয়েছে।