ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘরমুখো মানুষের স্রোত, নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে ট্রেন

সরকারি শেষ কর্মদিবস শেষ হওয়ায় সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের যে চাপ দেখা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে তা আরো বেড়ে জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। সকালে যাদের যাত্রার শিডিউল ছিলো তাদের অনেকেই রাতে এসে অপেক্ষায় ছিলেন। এতে সবগুলো প্লাটফর্মে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে স্টেশন ছাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়নি। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় এবং সব কার্যক্রম সুশৃঙ্খল থাকায় স্টেশনে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও উৎফুল্লভাব লক্ষ্য করা গেছে।

ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে দিনের ট্রেনযাত্রা শুরু হয়। এরপর ৬টা ৪৫ মিনিটে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, সোয়া ৭টায় খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর প্রভাতী, ৮টায় দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস সময়মতো ছেড়ে যায়।

কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর প্রভাতীর যাত্রীর সোলাইমান জানান, পরিবার নিয়ে ফজরের সময়ে স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন তিনি। তারা অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছেন। যাত্রীর চাপ বেশি হলেও স্টেশনে অন্যান্য বছরের তুলনায় শৃঙ্খলা রয়েছে জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কারণে বিনা টিকিটে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারছে না কেউ। ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার তিন স্তরের নিরাপত্তা ও টিকিট চেকিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিনা টিকিটে ভ্রমণ ঠেকাতে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ টিটিই আফতাব জানিয়েছেন, টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে পরিবারের সদস্য সংখ্যার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হলে নির্ধারিত ভাড়ায় তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। স্টেশনের প্রবেশপথে দুই দফা টিকিট পরীক্ষা করার কারণে সুশৃঙ্খলভাবে যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছেন।

স্টেশনের ভেতরে থাকা ডিউটিরত আরেকজন টিটিই জানান, কেউ টিকিট ছাড়া ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করলে প্রাথমিকভাবে ৫০ টাকা থেকে বিভিন্ন অঙ্কে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে, যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় টিকিট ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে তাকে স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরমুখো মানুষের স্রোত, নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে ট্রেন

আপডেট সময় ১১:৫৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

সরকারি শেষ কর্মদিবস শেষ হওয়ায় সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের যে চাপ দেখা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে তা আরো বেড়ে জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। সকালে যাদের যাত্রার শিডিউল ছিলো তাদের অনেকেই রাতে এসে অপেক্ষায় ছিলেন। এতে সবগুলো প্লাটফর্মে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে স্টেশন ছাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়নি। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় এবং সব কার্যক্রম সুশৃঙ্খল থাকায় স্টেশনে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও উৎফুল্লভাব লক্ষ্য করা গেছে।

ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে দিনের ট্রেনযাত্রা শুরু হয়। এরপর ৬টা ৪৫ মিনিটে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, সোয়া ৭টায় খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর প্রভাতী, ৮টায় দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস সময়মতো ছেড়ে যায়।

কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর প্রভাতীর যাত্রীর সোলাইমান জানান, পরিবার নিয়ে ফজরের সময়ে স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন তিনি। তারা অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছেন। যাত্রীর চাপ বেশি হলেও স্টেশনে অন্যান্য বছরের তুলনায় শৃঙ্খলা রয়েছে জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কারণে বিনা টিকিটে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারছে না কেউ। ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার তিন স্তরের নিরাপত্তা ও টিকিট চেকিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিনা টিকিটে ভ্রমণ ঠেকাতে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ টিটিই আফতাব জানিয়েছেন, টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে পরিবারের সদস্য সংখ্যার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হলে নির্ধারিত ভাড়ায় তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। স্টেশনের প্রবেশপথে দুই দফা টিকিট পরীক্ষা করার কারণে সুশৃঙ্খলভাবে যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছেন।

স্টেশনের ভেতরে থাকা ডিউটিরত আরেকজন টিটিই জানান, কেউ টিকিট ছাড়া ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করলে প্রাথমিকভাবে ৫০ টাকা থেকে বিভিন্ন অঙ্কে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে, যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় টিকিট ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে তাকে স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।