সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

মহেশপুরের ভূমি অফিসের নায়েব পঙ্গজ কুমারের ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৮:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬১২ বার পড়া হয়েছে

জনদুর্ভোগ ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে দেশের সকল ভূমি অফিসে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করলেও সেসব সেবা মুখথুবড়ে পড়েছে মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ডিজিটাল সেবা এখানে নামকাওয়াস্তে, অনেকটা
“” কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়াল শূন্য “”। এ অফিসে “” ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল, মেলেনা সেবা “”।
আর তাই সেবাপ্রত্যাশীরাও মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) পঙ্গজ কুমারকে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দারস্থ হচ্ছেন দালালদের। কুমারের বেঁধে দেওয়া রেট অনুযায়ী কর্মসম্পাদনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চিহ্নিত দালাল।

ভুক্তভোগী আ:সোবহান ও শাহাদাত হোসেন ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, নামজারি, খাজনা- খারিজ সহ নানা কার্যক্রমে সরকারি ফির চাইতেও ১০গুণ/১৫ গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নায়েব কুমার ও তাঁর সৃষ্ট এই শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। অন্যথায় মাস -বছর পেরিয়ে গেলেও সমাধান মিলছেনা। তবে দাগ নাম্বার বা ভোটার আইডি কার্ডে (NID) বানান ভুল থাকলে ভূক্তভোগীদের গুণতে হয় লক্ষাধিক টাকা।

মহেশপুর উপজেলার প্রতিটি মৌজাতেই গত তিন দশকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ভূমির মূল্য। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘুষের রেট আকাশচুম্বী করে দিয়ে পঙ্গজ কুমারসহ অধিকাংশ ভূমি কর্মকর্তাই হয়েছেন অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক।

ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে সনাতন পদ্ধতির(এনালগ) পরিবর্তে ডিজিটালাইজ্ড হলেও কমছে না দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করে দুই বছরেও মিলছে না নামজারিপত্র বা খারিজ। এর জন্য সরকারি ফি ১ হাজার ১০০শ ৭০ টাকা। কিন্তু দালাল চক্রের মাধ্যমে তহশিলদার পঙ্গজ কুমার স্যারকে সরকারি ফিস বাদে ১০/১২ হাজার টাকা ধরিয়ে দিতে পারলেই ১০ কর্মদিবসের মধ্যেই মিলছে নামজারি, মিসকেস সহ সকল সমস্যার সমাধান।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কেউ সরাসরি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে কাগজ-পত্র জমা দিলে সে কাজ আর কখনোই সমাধান হয়না। কারণ আজমপুরর নায়েব পঙ্গজ কুমার সেসব কাগজপত্রের এগেনেস্টে ভুলভাল নাম আর দাগ নাম্বার দেখিয়ে এসিল্যান্ড স্যারকে বিভ্রান্ত করেন। তাই এসিল্যান্ড অফিস থেকে সেসব ফাইল বাতিল করে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে এসিল্যান্ড বলেন, আমি বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

মহেশপুরের ভূমি অফিসের নায়েব পঙ্গজ কুমারের ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব

আপডেট সময় ০৮:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনদুর্ভোগ ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে দেশের সকল ভূমি অফিসে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করলেও সেসব সেবা মুখথুবড়ে পড়েছে মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ডিজিটাল সেবা এখানে নামকাওয়াস্তে, অনেকটা
“” কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়াল শূন্য “”। এ অফিসে “” ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল, মেলেনা সেবা “”।
আর তাই সেবাপ্রত্যাশীরাও মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) পঙ্গজ কুমারকে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দারস্থ হচ্ছেন দালালদের। কুমারের বেঁধে দেওয়া রেট অনুযায়ী কর্মসম্পাদনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চিহ্নিত দালাল।

ভুক্তভোগী আ:সোবহান ও শাহাদাত হোসেন ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, নামজারি, খাজনা- খারিজ সহ নানা কার্যক্রমে সরকারি ফির চাইতেও ১০গুণ/১৫ গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নায়েব কুমার ও তাঁর সৃষ্ট এই শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। অন্যথায় মাস -বছর পেরিয়ে গেলেও সমাধান মিলছেনা। তবে দাগ নাম্বার বা ভোটার আইডি কার্ডে (NID) বানান ভুল থাকলে ভূক্তভোগীদের গুণতে হয় লক্ষাধিক টাকা।

মহেশপুর উপজেলার প্রতিটি মৌজাতেই গত তিন দশকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ভূমির মূল্য। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘুষের রেট আকাশচুম্বী করে দিয়ে পঙ্গজ কুমারসহ অধিকাংশ ভূমি কর্মকর্তাই হয়েছেন অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক।

ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে সনাতন পদ্ধতির(এনালগ) পরিবর্তে ডিজিটালাইজ্ড হলেও কমছে না দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করে দুই বছরেও মিলছে না নামজারিপত্র বা খারিজ। এর জন্য সরকারি ফি ১ হাজার ১০০শ ৭০ টাকা। কিন্তু দালাল চক্রের মাধ্যমে তহশিলদার পঙ্গজ কুমার স্যারকে সরকারি ফিস বাদে ১০/১২ হাজার টাকা ধরিয়ে দিতে পারলেই ১০ কর্মদিবসের মধ্যেই মিলছে নামজারি, মিসকেস সহ সকল সমস্যার সমাধান।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কেউ সরাসরি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে কাগজ-পত্র জমা দিলে সে কাজ আর কখনোই সমাধান হয়না। কারণ আজমপুরর নায়েব পঙ্গজ কুমার সেসব কাগজপত্রের এগেনেস্টে ভুলভাল নাম আর দাগ নাম্বার দেখিয়ে এসিল্যান্ড স্যারকে বিভ্রান্ত করেন। তাই এসিল্যান্ড অফিস থেকে সেসব ফাইল বাতিল করে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে এসিল্যান্ড বলেন, আমি বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।