ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, চার বছরে ঘাটতি হাজার কোটি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্র বিকলের নামে ৪৭ লাখ টাকা লোপাট! আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে, উঠছে নানা প্রশ্ন সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ অবদান রাখায় নিসচা বিশেষ সম্মাননা পেলেন লায়ন গনি মিয়া বাবুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করল ১১-দল মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কচুয়ায় দেড় কিলোমিটার সড়ক বেহাল: ঝুঁকিতে ২৫০ শিক্ষার্থী, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল বিএনপি সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী গোপালগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা 

মহেশপুরের ভূমি অফিসের নায়েব পঙ্গজ কুমারের ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৮:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬২ বার পড়া হয়েছে

জনদুর্ভোগ ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে দেশের সকল ভূমি অফিসে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করলেও সেসব সেবা মুখথুবড়ে পড়েছে মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ডিজিটাল সেবা এখানে নামকাওয়াস্তে, অনেকটা
“” কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়াল শূন্য “”। এ অফিসে “” ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল, মেলেনা সেবা “”।
আর তাই সেবাপ্রত্যাশীরাও মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) পঙ্গজ কুমারকে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দারস্থ হচ্ছেন দালালদের। কুমারের বেঁধে দেওয়া রেট অনুযায়ী কর্মসম্পাদনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চিহ্নিত দালাল।

ভুক্তভোগী আ:সোবহান ও শাহাদাত হোসেন ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, নামজারি, খাজনা- খারিজ সহ নানা কার্যক্রমে সরকারি ফির চাইতেও ১০গুণ/১৫ গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নায়েব কুমার ও তাঁর সৃষ্ট এই শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। অন্যথায় মাস -বছর পেরিয়ে গেলেও সমাধান মিলছেনা। তবে দাগ নাম্বার বা ভোটার আইডি কার্ডে (NID) বানান ভুল থাকলে ভূক্তভোগীদের গুণতে হয় লক্ষাধিক টাকা।

মহেশপুর উপজেলার প্রতিটি মৌজাতেই গত তিন দশকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ভূমির মূল্য। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘুষের রেট আকাশচুম্বী করে দিয়ে পঙ্গজ কুমারসহ অধিকাংশ ভূমি কর্মকর্তাই হয়েছেন অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক।

ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে সনাতন পদ্ধতির(এনালগ) পরিবর্তে ডিজিটালাইজ্ড হলেও কমছে না দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করে দুই বছরেও মিলছে না নামজারিপত্র বা খারিজ। এর জন্য সরকারি ফি ১ হাজার ১০০শ ৭০ টাকা। কিন্তু দালাল চক্রের মাধ্যমে তহশিলদার পঙ্গজ কুমার স্যারকে সরকারি ফিস বাদে ১০/১২ হাজার টাকা ধরিয়ে দিতে পারলেই ১০ কর্মদিবসের মধ্যেই মিলছে নামজারি, মিসকেস সহ সকল সমস্যার সমাধান।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কেউ সরাসরি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে কাগজ-পত্র জমা দিলে সে কাজ আর কখনোই সমাধান হয়না। কারণ আজমপুরর নায়েব পঙ্গজ কুমার সেসব কাগজপত্রের এগেনেস্টে ভুলভাল নাম আর দাগ নাম্বার দেখিয়ে এসিল্যান্ড স্যারকে বিভ্রান্ত করেন। তাই এসিল্যান্ড অফিস থেকে সেসব ফাইল বাতিল করে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে এসিল্যান্ড বলেন, আমি বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, চার বছরে ঘাটতি হাজার কোটি

মহেশপুরের ভূমি অফিসের নায়েব পঙ্গজ কুমারের ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব

আপডেট সময় ০৮:০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনদুর্ভোগ ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে দেশের সকল ভূমি অফিসে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করলেও সেসব সেবা মুখথুবড়ে পড়েছে মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ডিজিটাল সেবা এখানে নামকাওয়াস্তে, অনেকটা
“” কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়াল শূন্য “”। এ অফিসে “” ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল, মেলেনা সেবা “”।
আর তাই সেবাপ্রত্যাশীরাও মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) পঙ্গজ কুমারকে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দারস্থ হচ্ছেন দালালদের। কুমারের বেঁধে দেওয়া রেট অনুযায়ী কর্মসম্পাদনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চিহ্নিত দালাল।

ভুক্তভোগী আ:সোবহান ও শাহাদাত হোসেন ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, নামজারি, খাজনা- খারিজ সহ নানা কার্যক্রমে সরকারি ফির চাইতেও ১০গুণ/১৫ গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নায়েব কুমার ও তাঁর সৃষ্ট এই শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। অন্যথায় মাস -বছর পেরিয়ে গেলেও সমাধান মিলছেনা। তবে দাগ নাম্বার বা ভোটার আইডি কার্ডে (NID) বানান ভুল থাকলে ভূক্তভোগীদের গুণতে হয় লক্ষাধিক টাকা।

মহেশপুর উপজেলার প্রতিটি মৌজাতেই গত তিন দশকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ভূমির মূল্য। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘুষের রেট আকাশচুম্বী করে দিয়ে পঙ্গজ কুমারসহ অধিকাংশ ভূমি কর্মকর্তাই হয়েছেন অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক।

ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে সনাতন পদ্ধতির(এনালগ) পরিবর্তে ডিজিটালাইজ্ড হলেও কমছে না দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করে দুই বছরেও মিলছে না নামজারিপত্র বা খারিজ। এর জন্য সরকারি ফি ১ হাজার ১০০শ ৭০ টাকা। কিন্তু দালাল চক্রের মাধ্যমে তহশিলদার পঙ্গজ কুমার স্যারকে সরকারি ফিস বাদে ১০/১২ হাজার টাকা ধরিয়ে দিতে পারলেই ১০ কর্মদিবসের মধ্যেই মিলছে নামজারি, মিসকেস সহ সকল সমস্যার সমাধান।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কেউ সরাসরি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে কাগজ-পত্র জমা দিলে সে কাজ আর কখনোই সমাধান হয়না। কারণ আজমপুরর নায়েব পঙ্গজ কুমার সেসব কাগজপত্রের এগেনেস্টে ভুলভাল নাম আর দাগ নাম্বার দেখিয়ে এসিল্যান্ড স্যারকে বিভ্রান্ত করেন। তাই এসিল্যান্ড অফিস থেকে সেসব ফাইল বাতিল করে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে এসিল্যান্ড বলেন, আমি বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।