ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে তার নম্বরে (০১৭১২২৫৪***) ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সাতটি ভিন্ন নম্বর থেকে আসা বিপুল এই অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে সম্পূর্ণ অবৈধ অনলাইন জুয়ায়।
প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুলিশ কনস্টেবল থেকে শুরু করে মুদি দোকানি ও বিভিন্ন এজেন্ট ওসির এই নম্বরে টাকা পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ‘লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ’ নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নম্বর থেকে সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা এবং মিজানুর নামের এক ব্যক্তির নম্বর থেকে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অধস্তন দুই কনস্টেবল সাদ্দাম ও আমজাদের নম্বর থেকে যথাক্রমে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা এবং ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা ওসির অ্যাকাউন্টে আসে। বাদ যাননি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও; ভাটারা থানার পেছনের একটি বিকাশ/নগদের দোকান (রহিমের দোকান) ও মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে এসেছে আরও ৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। পাশাপাশি খালেক ও নাসিম (বাড়িওয়ালা) নামের দুই ব্যক্তির নম্বর থেকেও চার লাখ টাকার বেশি জমা হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও এমন বিপুল ও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওসি ইমাউল হক তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাওয়া এসব টাকা এপিআই (API) সিস্টেম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ায় খরচ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ এই অনলাইন জুয়ার আড়ালে বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা নিরাপদ অর্থ লেনদেন ও পাচারের নতুন উপায় বের করেছেন। তবে এসব অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে ওসি ইমাউল হক পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। অনলাইন জুয়া সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই দাবি করে তিনি বলেন, তার মোবাইলটি হ্যাক করে কোনো একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব লেনদেন করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























