ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ২য় পর্ব

সরকারি গাছ হরিলুটের মহোৎসব : অভিযুক্ত বিপ্লব কুন্ডুই তদন্ত কমিটির প্রধান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০২:২৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫২০ বার পড়া হয়েছে

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যখন সেই সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে এবং পরবর্তীতে তাকেই সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্তের নেতৃত্বে বসানো হয়—তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিয়ে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অপারেশন ডিভিশন পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদ বিপ্লব কুন্ডুকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক এখন এমনই এক জটিল বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে অভিযোগ, তদন্ত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সবকিছু যেন একই বৃত্তে আবর্তিত হচ্ছে।

বিপ্লব কুন্ডুর বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কম দামে বিক্রি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য, গাছ চোরচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিযোগকারীরা জানান, এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিপ্লব কুন্ডু যখন সওজ অপারেশন ডিভিশন পশ্চিমাঞ্চল, রাজশাহীতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে উত্তরাঞ্চলের আটটি সড়ক ও মহাসড়কের ৮৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। প্রকল্পের আওতায় ১,৬১,৬০০টি বনজ, ফলজ, ঔষধি ও বাহারি জাতের গাছের চারা রোপণের কথা থাকলেও বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয় এবং তদন্তও শুরু হয়।

পরবর্তীতে পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব পাওয়ার পর অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বাঞ্চলেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। বিশেষ করে ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ছাগলনাইয়া হয়ে শুভপুর পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা মোট ১,০৩৪টি গাছ বিক্রির ঘটনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এই গাছগুলোকে ৩২টি লটে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১২টি লট টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও বাকি ২০টি লট অভিযোগ অনুযায়ী অনিয়মের মাধ্যমে অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১২টি লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৬২৯ টাকা, আর বাকি ২০টি লট মাত্র ৭ লাখ ৩২ হাজার ৮০৪ টাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ স্থানীয়দের মতে, এসব পরিণত মেহগনি ও রেইন্ট্রি গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল ৮০ লাখ টাকারও বেশি। এতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতিতে নিজেকে দায়মুক্ত করতে বিপ্লব কুন্ডু সহকারী বৃক্ষপালনবিদ রফিকুল ইসলাম চকদারের বিরুদ্ধে দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। এ সংক্রান্ত একটি অফিসিয়াল চিঠিও ইস্যু করা হয়। তবে রফিকুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে জানান, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না; বরং সরকারি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে অফিসের বাইরে ছিলেন।

অভিযোগকারী আব্দুল কাদের দাবি করেন, গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে অন্য এক পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা হয় এবং এর বিনিময়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিক দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, বিপ্লব কুন্ডুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে তাকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে গাছ বিক্রির অনিয়মের পাশাপাশি ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমিত পরিসরে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি সম্পদ বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী স্পট নিলামে প্রশাসনিক উপস্থিতি ও নির্ধারিত আর্থিক সীমা মানার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার আরেকটি দিক হলো, তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের নিবন্ধন নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা যায়, নম্বরটি অন্য একজন ব্যাংক কর্মকর্তার নামে নিবন্ধিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, তিনি বিপ্লব কুন্ডুকে চেনেন না। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিপ্লব কুন্ডু ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পাইকপাড়ায় অবস্থিত অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউ কেউ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানান এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পুরো ঘটনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ২য় পর্ব

সরকারি গাছ হরিলুটের মহোৎসব : অভিযুক্ত বিপ্লব কুন্ডুই তদন্ত কমিটির প্রধান

আপডেট সময় ০২:২৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যখন সেই সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে এবং পরবর্তীতে তাকেই সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্তের নেতৃত্বে বসানো হয়—তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিয়ে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অপারেশন ডিভিশন পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদ বিপ্লব কুন্ডুকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক এখন এমনই এক জটিল বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে অভিযোগ, তদন্ত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সবকিছু যেন একই বৃত্তে আবর্তিত হচ্ছে।

বিপ্লব কুন্ডুর বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কম দামে বিক্রি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য, গাছ চোরচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিযোগকারীরা জানান, এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিপ্লব কুন্ডু যখন সওজ অপারেশন ডিভিশন পশ্চিমাঞ্চল, রাজশাহীতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে উত্তরাঞ্চলের আটটি সড়ক ও মহাসড়কের ৮৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। প্রকল্পের আওতায় ১,৬১,৬০০টি বনজ, ফলজ, ঔষধি ও বাহারি জাতের গাছের চারা রোপণের কথা থাকলেও বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয় এবং তদন্তও শুরু হয়।

পরবর্তীতে পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব পাওয়ার পর অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বাঞ্চলেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। বিশেষ করে ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ছাগলনাইয়া হয়ে শুভপুর পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা মোট ১,০৩৪টি গাছ বিক্রির ঘটনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এই গাছগুলোকে ৩২টি লটে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১২টি লট টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও বাকি ২০টি লট অভিযোগ অনুযায়ী অনিয়মের মাধ্যমে অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১২টি লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৬২৯ টাকা, আর বাকি ২০টি লট মাত্র ৭ লাখ ৩২ হাজার ৮০৪ টাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ স্থানীয়দের মতে, এসব পরিণত মেহগনি ও রেইন্ট্রি গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল ৮০ লাখ টাকারও বেশি। এতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতিতে নিজেকে দায়মুক্ত করতে বিপ্লব কুন্ডু সহকারী বৃক্ষপালনবিদ রফিকুল ইসলাম চকদারের বিরুদ্ধে দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। এ সংক্রান্ত একটি অফিসিয়াল চিঠিও ইস্যু করা হয়। তবে রফিকুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে জানান, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না; বরং সরকারি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে অফিসের বাইরে ছিলেন।

অভিযোগকারী আব্দুল কাদের দাবি করেন, গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে অন্য এক পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা হয় এবং এর বিনিময়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিক দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, বিপ্লব কুন্ডুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে তাকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে গাছ বিক্রির অনিয়মের পাশাপাশি ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমিত পরিসরে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি সম্পদ বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী স্পট নিলামে প্রশাসনিক উপস্থিতি ও নির্ধারিত আর্থিক সীমা মানার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার আরেকটি দিক হলো, তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের নিবন্ধন নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা যায়, নম্বরটি অন্য একজন ব্যাংক কর্মকর্তার নামে নিবন্ধিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, তিনি বিপ্লব কুন্ডুকে চেনেন না। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিপ্লব কুন্ডু ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পাইকপাড়ায় অবস্থিত অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউ কেউ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানান এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পুরো ঘটনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।