ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ হবে সব নাগরিকের যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ১২টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নবীনচন্দ্র মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন,আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির প্রথম ভোট হবে গণভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। সারাদেশবাসী ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করবে, ইনশাআল্লাহ। হ্যাঁ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ রাস্তা খুঁজে পাবে। নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে। সেই নতুন বাংলাদেশ চালানোর জন্য ইনসাফভিত্তিক একটা রাষ্ট্র কাঠামো আমাদের লাগবে।’
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মায়ের ইজ্জতের কোন গ্যারান্টি নাই। যেখানে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ দেশ, যেখানে দুর্নীতে ছেয়ে গেছে দেশ। যেখানে নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এই বাংলাদেশ আমাদের সবার বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশকে আমরা পাল্টে দিতে চাই। নতুন বাংলাদেশ চাই। বলবেন সেই বাংলাদেশ কী? অন্য কোন দেশ হবে কী না? না। এই বাংলাদেশই থাকবে, শুধু তার চেহারা পাল্টে যাবে। মানচিত্র ঠিক থাকবে ইনশাআল্লাহ। সেই চেহারা পাল্টানোর দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই ১২ তারিখ দ্বায়িত্বশীল একেকটা ভোট আর বাংলাদেশের তিনশ আসনবাসী এটাই নির্ধারণ করে দিবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথ ধরে চলবে। আমরা যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা মা বোনদের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ অধিকারের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু আল্লাহর কসম বাংলাদেশে আইন সবার জন্য সমান নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা করাপশন দূর করার সাথে সাথেই আমাদের প্রডাকশনও শুরু হয়ে যাবে। এবং সামনের দিকে এই দেশ এগিয়ে চলবে, কারে নিয়ে? এ দেশ এগিয়ে চলবে যুবকদের হাত ধরে ইনশাআল্লাহ। এই দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। এটা মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয়, এটা আমাদের বুকের কথা। কেন দিবো না? দুই কারণে দিবো, দিতে হবে। আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। আপনারা এখানে আজকে লাখো মানুষ মা-বোনেরা সহ হাজির হয়েছেন। চিন্তা করুন তো ২৪ সালের ৫ আগস্ট এর আগে এরকম কী চিন্তা করতে পেরেছিলাম! যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদেরকে এই স্বাধীনতা এই মুক্তিটা এনে দিয়েছে, এই জাতি চিরদিন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে শরিফ ওসমান হাদি পর্যন্ত যারা তাদের মূল্যবান জীবনটা উপহার দিয়ে আমাদের জীবনটা বাঁচিয়ে গেছে আমরা ইনশাল্লাহ তাদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকব, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এখানে কারো সাথে আমাদের কোন কম্প্রোমাইজ নাই, কোন আপোষ নাই। আপোষহীন চলবো ইনশাআল্লাহ।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে চা-শ্রমিকদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হবে—একটি সুস্বাস্থ্য, অন্যটি সুশিক্ষা।’
চা-শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই যাই আমি চা-শ্রমিকদের ভুলি না, কারণ চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে আমার জন্ম। তাদেরকে ভুললে আমার নিজেকেই ভুলা হয়ে যাবে। ‘রাজার ছেলে রাজা হবে, রানির মেয়ে রানি হবে’—এই ধারণা আমরা ভেঙে দিতে চাই। আমরা চাই, শ্রমিকের ভাই কিংবা বোনের মেধাবী সন্তানও একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।’
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইয়ামির আলীর সঞ্চালনায় এবং জেলা জামায়াতের আমির মো. সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সদস্য শরিফ মাহমুদ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সিলেট মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রব, এনসিপির জেলা যুগ্ন সচিব শাহ আলম সরকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা ইউসুফ আহমদ, ফুলতলা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি হর গোবিন্দ ও সিংগুর পানপুঞ্জির মন্ত্রী জামিন ধর প্রমূখ।
এদিকে জনসভায় অনেকের কৌতূহল ছিল জেলার চারটি আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের জামায়াত আমির প্রতীক তুলে দিবেন এবং উপস্থিত জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেবেন। তবে এক্ষেত্রে জামায়াত আমির কুলাউড়া-২ আসনে ও মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিলেও ওই পর্বে ছিলেন না মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী ও এনসিপির প্রীতম দাশের নাম।
মোঃ আঃ রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার 



















