সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং, ঝুঁকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু “চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযান: ওয়ারড্রব থেকে হেরোইন-ইয়াবা-গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি আটক অনিয়মের বেড়াজালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী-সচিবের নির্দেশেও ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করায় ইসরায়েলের তোপের মুখে ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চার দিনের রিমান্ড বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী

হাটহাজারী এলজিইডিতে প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’র ঘুষ-বাণিজ্য

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০২:৩০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬২৬ বার পড়া হয়েছে

সরকারের পরিবর্তন হলেও চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখানকার উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’র বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। তাদের অভিযোগ, এই প্রকৌশলীর অনৈতিক চাহিদার কাছে তারা রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের মতে, প্রকৌশলী জয়শ্রী দে প্রতিটি উন্নয়ন কাজের বিলে বাধ্যতামূলক ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। এই টাকা না দিলে তিনি ফাইলে সই করেন না। তার এই বেপরোয়া আচরণের কারণে অনেকেই তাকে এলজিইডির ‘দুর্নীতির মুকুটহীন রানী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

নিয়ম অনুযায়ী কাজ শেষ করার পর ঠিকাদারদের বিল পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রকৌশলী জয়শ্রী দে বিল আটকে রাখার জন্য ‘শতভাগ কাজ বুঝে নেওয়া’র অজুহাত তৈরি করেন। ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জানান, এটি মূলত তার ঘুষ আদায়ের একটি কৌশল। কাজের মোট বরাদ্দের ৫ শতাংশ অর্থ তাকে অগ্রিম কমিশন হিসেবে না দিলে ফাইলের কোনো অগ্রগতি হয় না। এমনকি এই কমিশন দেওয়ার পরেও বিলের চেকে সই করানোর সময় তাকে দিতে হয় বাড়তি ‘টেবিল মানি’।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দপ্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার দাপট কমেনি। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিজের খুঁটির জোর দেখিয়ে ঠিকাদারদের তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ঘুষ ছাড়া তার দপ্তরে কোনো কাজ হবে না।

উপজেলা প্রকৌশলীর এমন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিষয়ে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলীর কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। দীর্ঘদিনের এই অনিয়মের কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ঠিকাদারদের ধারণা, এই দুর্নীতির লভ্যাংশ হয়তো ওপর মহলেও পৌঁছে যায়।

ঘুষ ছাড়া ফাইল না নড়ার কারণে হাটহাজারীর সড়ক ও অবকাঠামোগত বহু উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘুষের টাকা জোগাতে গিয়ে অনেক ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন। এতে সরকারের উন্নয়নকাজের গতি ও মান—উভয়ই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

(আগামী পর্বে থাকছে: প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’র দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে? তার অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও সিন্ডিকেটের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।)

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

হাটহাজারী এলজিইডিতে প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’র ঘুষ-বাণিজ্য

আপডেট সময় ০২:৩০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারের পরিবর্তন হলেও চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখানকার উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’র বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। তাদের অভিযোগ, এই প্রকৌশলীর অনৈতিক চাহিদার কাছে তারা রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের মতে, প্রকৌশলী জয়শ্রী দে প্রতিটি উন্নয়ন কাজের বিলে বাধ্যতামূলক ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। এই টাকা না দিলে তিনি ফাইলে সই করেন না। তার এই বেপরোয়া আচরণের কারণে অনেকেই তাকে এলজিইডির ‘দুর্নীতির মুকুটহীন রানী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

নিয়ম অনুযায়ী কাজ শেষ করার পর ঠিকাদারদের বিল পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রকৌশলী জয়শ্রী দে বিল আটকে রাখার জন্য ‘শতভাগ কাজ বুঝে নেওয়া’র অজুহাত তৈরি করেন। ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জানান, এটি মূলত তার ঘুষ আদায়ের একটি কৌশল। কাজের মোট বরাদ্দের ৫ শতাংশ অর্থ তাকে অগ্রিম কমিশন হিসেবে না দিলে ফাইলের কোনো অগ্রগতি হয় না। এমনকি এই কমিশন দেওয়ার পরেও বিলের চেকে সই করানোর সময় তাকে দিতে হয় বাড়তি ‘টেবিল মানি’।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দপ্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার দাপট কমেনি। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিজের খুঁটির জোর দেখিয়ে ঠিকাদারদের তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ঘুষ ছাড়া তার দপ্তরে কোনো কাজ হবে না।

উপজেলা প্রকৌশলীর এমন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিষয়ে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলীর কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। দীর্ঘদিনের এই অনিয়মের কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ঠিকাদারদের ধারণা, এই দুর্নীতির লভ্যাংশ হয়তো ওপর মহলেও পৌঁছে যায়।

ঘুষ ছাড়া ফাইল না নড়ার কারণে হাটহাজারীর সড়ক ও অবকাঠামোগত বহু উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘুষের টাকা জোগাতে গিয়ে অনেক ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন। এতে সরকারের উন্নয়নকাজের গতি ও মান—উভয়ই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

(আগামী পর্বে থাকছে: প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’র দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে? তার অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও সিন্ডিকেটের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।)