ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ইউজিসির ৪ সদস্য ও সচিব এর সাথে পবিপ্রবির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট! কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি জটিলতা, সংশোধন করবে সরকার মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪ স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী

রাজউকের পলাশ শিকদারের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭০৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক কর্মকর্তার অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প এটি। ৮ বছরের চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা বাবদ তার বৈধ আয় মাত্র ৩৪ লাখ টাকা। অথচ বাস্তবে তিনি চড়েন কোটি টাকার গাড়িতে, গ্রামে গড়েছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। সব মিলিয়ে অন্তত ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার নাম পলাশ শিকদার।

রাজউকের উত্তরা জোনের অথরাইজড অফিসার পদে থাকা পলাশের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক ও রাজউকের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০১৫ সালে সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে রাজউকে যোগ দেন পলাশ শিকদার। যোগদানের পর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সরকারি বেতন ও ভাতা বাবদ তিনি মোট আয় করেছেন ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৪১ টাকা। অথচ তার মালিকানাধীন ও বেনামি সম্পদের পরিমাণ এই আয়ের বহুগুণ বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশ শিকদার ঢাকায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি হ্যারিয়ার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৭৯০২) ব্যবহার করেন। বিআরটিএ-এর তথ্যে দেখা যায়, নিজেকে আড়াল করতে গাড়িটি আফসানা মরিয়ম নামের এক নারীর নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।

পলাশ শিকদারের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮-৮৯ সালেও তার পরিবার ভূমিহীন হিসেবে ১০০ শতাংশ সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েছিল। রাজউকে চাকরি পাওয়ার পরই বদলে যায় সেই পরিবারের ভাগ্য।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রামের বাড়িতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া নেছারাবাদ উপজেলার ব্যাসকাঠি মৌজায় বাবার নামে ৩৫ লাখ টাকায় ১ একর ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। মেজো বোন সেলিনা আক্তার রেবুর জন্য ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করে দিয়েছেন দোতলা বাড়ি। এমনকি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন-ব্লকে শ্যালকের (স্ত্রীর ছোট ভাই) নামে প্লট নিয়ে সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও জানা যায়, বাবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেতানোর জন্য তিনি প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) দপ্তরে এবং পরবর্তীতে উত্তরা জোনের বিসি কমিটির (ভবন নির্মাণ অনুমোদন কমিটি) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বেপরোয়া দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান এবং দালালি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

ইতোমধ্যে পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে আসা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। সংস্থার উপপরিচালক মানসী বিশ্বাসকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২১ জুন পলাশ শিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। সম্পদের খোঁজে ব্যাংক, রিহ্যাব, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলাকালীন তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের পৃথক আরেকটি অভিযোগও তদন্ত করছে দুদক।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পলাশ শিকদারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রাজউকের পলাশ শিকদারের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

আপডেট সময় ০১:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক কর্মকর্তার অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প এটি। ৮ বছরের চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা বাবদ তার বৈধ আয় মাত্র ৩৪ লাখ টাকা। অথচ বাস্তবে তিনি চড়েন কোটি টাকার গাড়িতে, গ্রামে গড়েছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। সব মিলিয়ে অন্তত ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার নাম পলাশ শিকদার।

রাজউকের উত্তরা জোনের অথরাইজড অফিসার পদে থাকা পলাশের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক ও রাজউকের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০১৫ সালে সহকারী অথরাইজড অফিসার হিসেবে রাজউকে যোগ দেন পলাশ শিকদার। যোগদানের পর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সরকারি বেতন ও ভাতা বাবদ তিনি মোট আয় করেছেন ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৪১ টাকা। অথচ তার মালিকানাধীন ও বেনামি সম্পদের পরিমাণ এই আয়ের বহুগুণ বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশ শিকদার ঢাকায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি হ্যারিয়ার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৭৯০২) ব্যবহার করেন। বিআরটিএ-এর তথ্যে দেখা যায়, নিজেকে আড়াল করতে গাড়িটি আফসানা মরিয়ম নামের এক নারীর নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।

পলাশ শিকদারের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮-৮৯ সালেও তার পরিবার ভূমিহীন হিসেবে ১০০ শতাংশ সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েছিল। রাজউকে চাকরি পাওয়ার পরই বদলে যায় সেই পরিবারের ভাগ্য।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রামের বাড়িতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া নেছারাবাদ উপজেলার ব্যাসকাঠি মৌজায় বাবার নামে ৩৫ লাখ টাকায় ১ একর ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। মেজো বোন সেলিনা আক্তার রেবুর জন্য ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করে দিয়েছেন দোতলা বাড়ি। এমনকি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন-ব্লকে শ্যালকের (স্ত্রীর ছোট ভাই) নামে প্লট নিয়ে সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও জানা যায়, বাবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেতানোর জন্য তিনি প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) দপ্তরে এবং পরবর্তীতে উত্তরা জোনের বিসি কমিটির (ভবন নির্মাণ অনুমোদন কমিটি) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বেপরোয়া দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান এবং দালালি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

ইতোমধ্যে পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে আসা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। সংস্থার উপপরিচালক মানসী বিশ্বাসকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২১ জুন পলাশ শিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। সম্পদের খোঁজে ব্যাংক, রিহ্যাব, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলাকালীন তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের পৃথক আরেকটি অভিযোগও তদন্ত করছে দুদক।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পলাশ শিকদারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।