ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভৈরব থেকে নিখোঁজ কিশোর রামিম সন্ধান চায় পরিবার টংঙ্গী মুজিব নগর সাবরেজিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এর বিরুদ্ধে ঘুষ দুনীতির সমাচার ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : শিক্ষক কারাগারে বোরহানউদ্দিনে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক গোপালগঞ্জে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৭ বিভাগে কালবৈশাখি ঝড়ের আভাস নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু গাংনীতে জাল সনদ ও ব্যাকডেটেড নিয়োগের অভিযোগ: অভিযুক্ত বিটিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুজিবুর রহমান কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেটকে যেভাবে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা, জানাল র‍্যাব নীতিমালা উপেক্ষা করে ঘোড়াশালে আবাসিক এলাকায় কন্টেইনার ডিপো নির্মাণে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।

‘জিনের বাদশা’ আবু বকরের অবৈধ সাম্রাজ্য: তদন্ত পাল্টে হাতিয়েছেন কোটি টাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৯২ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। কমিশনের ভেতরে-বাইরে তিনি পরিচিত ‘জিনের বাদশা’ নামে। অভিযোগ রয়েছে, এই নাম ব্যবহারের মতোই তিনি জাদুর মতো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রতিবেদনের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন। আর এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে আবু বকরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শামসুজ্জামানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিজের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলানোর জন্য তিনি আবু বকরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় আবু বকর তার কাছে ৬০ লাখ টাকা দাবি করেন। শামসুজ্জামান নগদ টাকা নিয়ে তার বাসায় গেলে, আবু বকর তা ডলারে রূপান্তর করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ডলার দেওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।

শামসুজ্জামানের মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান দুদকের উপপরিচালক গোলাম মাওলা। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম মাওলাও ধাপে ধাপে শামসুজ্জামানের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। টাকা পাওয়ার পর তিনি অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশসহ কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। সরকারি দপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা আবু বকরের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ তুলেছেন।

সূত্রের খবর, আবু বকরের এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী। এর সঙ্গে দুদকের একাধিক পরিচালক, মহাপরিচালক এবং কমিশনারের যোগসাজশ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি দুদকের বর্তমান এক কমিশনারের ‘ক্যাশিয়ার’ বা টাকা সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করেন। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরেও ওই কমিশনারের প্রভাব খাটিয়ে আবু বকর এখনো কমিশনে নিয়মিত তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, ‘তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

অন্যদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বিষয়টিকে ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুদকের ম্যান্ডেট হলো অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। সেখানে খোদ কর্মকর্তারাই যদি অপরাধে জড়ান, তবে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অভিযুক্তদের সঙ্গে দালালি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে তারা অবৈধ সম্পদ গড়ছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়েও এ ধরনের কর্মকর্তারা দুদককে বেশি অকার্যকর করে রেখেছেন।’ তিনি অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে এই কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের ভাটারার বাসভবনে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার নির্মাণাধীন বাড়ির অফিসে তিনি উপস্থিত থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরব থেকে নিখোঁজ কিশোর রামিম সন্ধান চায় পরিবার

‘জিনের বাদশা’ আবু বকরের অবৈধ সাম্রাজ্য: তদন্ত পাল্টে হাতিয়েছেন কোটি টাকা

আপডেট সময় ০১:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। কমিশনের ভেতরে-বাইরে তিনি পরিচিত ‘জিনের বাদশা’ নামে। অভিযোগ রয়েছে, এই নাম ব্যবহারের মতোই তিনি জাদুর মতো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রতিবেদনের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন। আর এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে আবু বকরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শামসুজ্জামানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিজের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলানোর জন্য তিনি আবু বকরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় আবু বকর তার কাছে ৬০ লাখ টাকা দাবি করেন। শামসুজ্জামান নগদ টাকা নিয়ে তার বাসায় গেলে, আবু বকর তা ডলারে রূপান্তর করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ডলার দেওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।

শামসুজ্জামানের মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান দুদকের উপপরিচালক গোলাম মাওলা। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম মাওলাও ধাপে ধাপে শামসুজ্জামানের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। টাকা পাওয়ার পর তিনি অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশসহ কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। সরকারি দপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা আবু বকরের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ তুলেছেন।

সূত্রের খবর, আবু বকরের এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী। এর সঙ্গে দুদকের একাধিক পরিচালক, মহাপরিচালক এবং কমিশনারের যোগসাজশ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি দুদকের বর্তমান এক কমিশনারের ‘ক্যাশিয়ার’ বা টাকা সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করেন। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরেও ওই কমিশনারের প্রভাব খাটিয়ে আবু বকর এখনো কমিশনে নিয়মিত তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, ‘তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

অন্যদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বিষয়টিকে ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুদকের ম্যান্ডেট হলো অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। সেখানে খোদ কর্মকর্তারাই যদি অপরাধে জড়ান, তবে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অভিযুক্তদের সঙ্গে দালালি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে তারা অবৈধ সম্পদ গড়ছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়েও এ ধরনের কর্মকর্তারা দুদককে বেশি অকার্যকর করে রেখেছেন।’ তিনি অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে এই কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের ভাটারার বাসভবনে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার নির্মাণাধীন বাড়ির অফিসে তিনি উপস্থিত থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।