ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেকনাফ সীমান্তে ১০ স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৮ বার পড়া হয়েছে

মায়ানমার সীমান্তসংলগ্ন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া এসব অংশে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্ফোরক না পাওয়া গেলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় টহল চলাকালে এসব চাপ প্লেটের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। পরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো দেখতে স্থলমাইনের সক্রিয় ট্রিগার ব্যবস্থার মতো। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সীমান্তের আরো কিছু এলাকায় স্থলমাইন পুঁতে রাখা থাকতে পারে।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের চাপ প্লেট সদৃশ কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এতে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে এগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাধারণত একটি স্থলমাইনে বিস্ফোরক অংশ, ডিটোনেটর, বুস্টার চার্জ এবং ফায়ারিং মেকানিজম থাকে।

তবে এবার যে অংশগুলো উদ্ধার হয়েছে, সেগুলো মূলত মাটির ওপর স্থাপিত চাপ প্লেট ও বাহ্যিক কাঠামোর অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, এখন মাঠে যাওয়া তো দূরের কথা, বাড়ির বাইরে বের হতে গেলেও ভয় লাগে। কখন কোথায় মাইন আছে, কেউ জানে না। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, নদীই আমাদের জীবিকা।

কিন্তু এখন নৌকা নামালেই গুলির ভয়, আবার মাইনের আতঙ্ক। এই অবস্থায় জীবন বাঁচিয়ে চলা কঠিন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো শঙ্কায় রয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক স্থানে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

প্রসঙ্গত, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন এবং দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও—শোনা যাচ্ছে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ।

সুত্র: কালের কণ্ঠ

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফ সীমান্তে ১০ স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার

আপডেট সময় ০৫:৩২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

মায়ানমার সীমান্তসংলগ্ন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া এসব অংশে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্ফোরক না পাওয়া গেলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় টহল চলাকালে এসব চাপ প্লেটের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। পরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো দেখতে স্থলমাইনের সক্রিয় ট্রিগার ব্যবস্থার মতো। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সীমান্তের আরো কিছু এলাকায় স্থলমাইন পুঁতে রাখা থাকতে পারে।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের চাপ প্লেট সদৃশ কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এতে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে এগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাধারণত একটি স্থলমাইনে বিস্ফোরক অংশ, ডিটোনেটর, বুস্টার চার্জ এবং ফায়ারিং মেকানিজম থাকে।

তবে এবার যে অংশগুলো উদ্ধার হয়েছে, সেগুলো মূলত মাটির ওপর স্থাপিত চাপ প্লেট ও বাহ্যিক কাঠামোর অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, এখন মাঠে যাওয়া তো দূরের কথা, বাড়ির বাইরে বের হতে গেলেও ভয় লাগে। কখন কোথায় মাইন আছে, কেউ জানে না। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, নদীই আমাদের জীবিকা।

কিন্তু এখন নৌকা নামালেই গুলির ভয়, আবার মাইনের আতঙ্ক। এই অবস্থায় জীবন বাঁচিয়ে চলা কঠিন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো শঙ্কায় রয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক স্থানে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

প্রসঙ্গত, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন এবং দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও—শোনা যাচ্ছে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ।

সুত্র: কালের কণ্ঠ