সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

সৌদিতে স্বর্ণের বিশাল খনি আবিষ্কার, মজুদ বাড়ল ২ লাখ কেজির বেশি

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাদেন’ দেশটির চারটি স্থানে নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স বা ২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি স্বর্ণের মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের স্বর্ণ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রিলিং বা খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া গেলেও বার্ষিক হিসাব সমন্বয়ের পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাদেন জানায়, তাদের প্রধান প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাও—এই চার এলাকায় নতুন করে এই মজুদের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে, যেখানে গত বছরের তুলনায় মজুদ বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স। এ ছাড়া উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম প্রকল্পে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স এবং ওয়াদি আল জাও প্রকল্পে প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুদ পাওয়া গেছে।

মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বব উইল্ট বলেন, এই সাফল্য সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ কাজে লাগানোর এবং বৈশ্বিক খনি শিল্পে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, “এই ফলাফল প্রমাণ করে যে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল মাঠপর্যায়ে সফলভাবে কাজ করছে। ঠিক এ কারণেই আমরা সৌদি আরবের স্বর্ণ ভাণ্ডারে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি।”

উইল্ট আরও জানান, নতুন করে এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদের সন্ধান পাওয়া কোম্পানির সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, “চারটি স্থানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ৭০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের মজুদ খুঁজে পাওয়া মাদেনের স্বর্ণ পোর্টফোলিও’র বিশালতা এবং এর ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার প্রমাণ দেয়। অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আমরা নিয়মিত সুফল পাচ্ছি। আমাদের সম্পদের পরিমাণ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে নগদ অর্থ প্রবাহ বা আয় বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।”

২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে কোম্পানিটি মধ্য সৌদি আরবের স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। সেখানে উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন খনিজ অঞ্চলের সন্ধান মিলেছে, যা বিদ্যমান খনিগুলোর পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক ‘মাহদ’ স্বর্ণ খনি এলাকায় চালানো অনুসন্ধানেও নতুন খনিজ স্তরের দেখা মিলেছে, যা খনিটির আয়ুষ্কাল বাড়াতে সাহায্য করবে।

মাদেনের সিইও বব উইল্ট বলেন, এই ফলাফল কোম্পানির ব্যবসা বহুমুখীকরণের লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, “এই ফলাফল আমাদের সামগ্রিক সক্ষমতারই প্রমাণ। তামা ও নিকেলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা একই ধরনের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি, যা আমরা শুরুতে স্বর্ণের ক্ষেত্রে দেখেছিলাম। এটি স্পষ্ট যে ‘অ্যারাবিয়ান শিল্ড’ অঞ্চলে বড় আকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “শায়বান এবং জাবাল আল ওয়াকিল এলাকায় আমরা যা দেখছি, তা পুরো সৌদি আরবজুড়ে বিশাল সুযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি আমাদের ক্রমবর্ধমান স্বর্ণ ব্যবসার পাশাপাশি তামা ও নিকেলের মতো বিভিন্ন খনিজ সম্পদের একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও গড়ে তোলার লক্ষ্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”

মাদেনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘মানসুরা মাসারাহ’-তে বর্তমানে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুদের ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি টন আকরিক থেকে ২.৮ গ্রাম হারে মোট ১ কোটি ৪ লাখ আউন্স স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। সর্বশেষ ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্পে গত বছরের তুলনায় নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে, যদিও মোট নতুন মজুদ যুক্ত হয়েছিল ৪২ লাখ আউন্স।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, মানসুরা ও মাসারাহ—উভয় খনির গভীর স্তরে আরও খনিজ আকরিক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করবে। ২০২৬ সালজুড়ে সেখানে ড্রিলিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। খনিটির ভূ-কাঠামো নিয়ে গবেষণায় নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে হালনাগাদ করা হবে বলে জানিয়েছে মাদেন।

সূত্র : গালফ নিউজ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

সৌদিতে স্বর্ণের বিশাল খনি আবিষ্কার, মজুদ বাড়ল ২ লাখ কেজির বেশি

আপডেট সময় ০২:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাদেন’ দেশটির চারটি স্থানে নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স বা ২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি স্বর্ণের মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের স্বর্ণ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রিলিং বা খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া গেলেও বার্ষিক হিসাব সমন্বয়ের পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাদেন জানায়, তাদের প্রধান প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাও—এই চার এলাকায় নতুন করে এই মজুদের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে, যেখানে গত বছরের তুলনায় মজুদ বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স। এ ছাড়া উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম প্রকল্পে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স এবং ওয়াদি আল জাও প্রকল্পে প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুদ পাওয়া গেছে।

মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বব উইল্ট বলেন, এই সাফল্য সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ কাজে লাগানোর এবং বৈশ্বিক খনি শিল্পে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, “এই ফলাফল প্রমাণ করে যে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল মাঠপর্যায়ে সফলভাবে কাজ করছে। ঠিক এ কারণেই আমরা সৌদি আরবের স্বর্ণ ভাণ্ডারে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি।”

উইল্ট আরও জানান, নতুন করে এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদের সন্ধান পাওয়া কোম্পানির সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, “চারটি স্থানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ৭০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের মজুদ খুঁজে পাওয়া মাদেনের স্বর্ণ পোর্টফোলিও’র বিশালতা এবং এর ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার প্রমাণ দেয়। অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আমরা নিয়মিত সুফল পাচ্ছি। আমাদের সম্পদের পরিমাণ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে নগদ অর্থ প্রবাহ বা আয় বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।”

২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে কোম্পানিটি মধ্য সৌদি আরবের স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। সেখানে উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন খনিজ অঞ্চলের সন্ধান মিলেছে, যা বিদ্যমান খনিগুলোর পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক ‘মাহদ’ স্বর্ণ খনি এলাকায় চালানো অনুসন্ধানেও নতুন খনিজ স্তরের দেখা মিলেছে, যা খনিটির আয়ুষ্কাল বাড়াতে সাহায্য করবে।

মাদেনের সিইও বব উইল্ট বলেন, এই ফলাফল কোম্পানির ব্যবসা বহুমুখীকরণের লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, “এই ফলাফল আমাদের সামগ্রিক সক্ষমতারই প্রমাণ। তামা ও নিকেলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা একই ধরনের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি, যা আমরা শুরুতে স্বর্ণের ক্ষেত্রে দেখেছিলাম। এটি স্পষ্ট যে ‘অ্যারাবিয়ান শিল্ড’ অঞ্চলে বড় আকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “শায়বান এবং জাবাল আল ওয়াকিল এলাকায় আমরা যা দেখছি, তা পুরো সৌদি আরবজুড়ে বিশাল সুযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি আমাদের ক্রমবর্ধমান স্বর্ণ ব্যবসার পাশাপাশি তামা ও নিকেলের মতো বিভিন্ন খনিজ সম্পদের একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও গড়ে তোলার লক্ষ্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”

মাদেনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘মানসুরা মাসারাহ’-তে বর্তমানে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুদের ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি টন আকরিক থেকে ২.৮ গ্রাম হারে মোট ১ কোটি ৪ লাখ আউন্স স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। সর্বশেষ ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্পে গত বছরের তুলনায় নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে, যদিও মোট নতুন মজুদ যুক্ত হয়েছিল ৪২ লাখ আউন্স।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, মানসুরা ও মাসারাহ—উভয় খনির গভীর স্তরে আরও খনিজ আকরিক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করবে। ২০২৬ সালজুড়ে সেখানে ড্রিলিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। খনিটির ভূ-কাঠামো নিয়ে গবেষণায় নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে হালনাগাদ করা হবে বলে জানিয়েছে মাদেন।

সূত্র : গালফ নিউজ।