ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যা ঘটে

  • লাইফস্টাইল
  • আপডেট সময় ০১:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৭ বার পড়া হয়েছে

করলার রস এমন একটি খাবার যা বেশিরভাগ মানুষের কাছেই পছন্দের নয়। তীব্র তিক্ততার জন্য পরিচিত করলার রস ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া প্রতিকারের অংশ, বিশেষ করে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। অনেকের মধ্যে প্রতিদিন করলার রস পান করা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তবে এর প্রভাব সোশ্যাল মিডিয়ার মতো নাটকীয় বা তাৎক্ষণিক নয়। বেশিরভাগ প্রাকৃতিক খাবারের মতো, করলার রস সুষম খাবার এবং জীবনযাত্রার অভ্যাসের সঙ্গে মিলিত হলে ধীরে ধীরে এবং সর্বোত্তমভাবে কাজ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে কী ঘটে-

১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে

সকালের রুটিনে করলার রস রাখার একটি দীর্ঘস্থায়ী কারণ হলো এর গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার ক্ষমতা। করলায় রয়েছে চ্যারান্টিন এবং পলিপেপটাইড-পি এর মতো যৌগ যা রক্তে শর্করার প্রভাবের জন্য পরিচিত। করলার রস ইনসুলিনকে সক্রিয় করে তোলে। ইনসুলিন সক্রিয় থাকলে সুগার পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহৃত হবে এবং চর্বিতে রূপান্তরিত হবে না, যা ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

২. হজম এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে

প্রতিদিন করলার রস পান করলে হজম এনজাইম উদ্দীপিত হতে পারে, যা মসৃণ হজমে সহায়তা করতে পারে। এর প্রাকৃতিক তিক্ততা পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে, যা পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। তেতো সবজি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। করলা প্রাকৃতিকভাবে ফাইবার সমৃদ্ধ, যা অন্ত্রের আরামে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে বা খালি পেটে এটি খেলে তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের জন্য।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

করলার রসে ক্যালোরি কম থাকে এবং এতে ফাইবার থাকে, যা সুষম রুটিনের অংশ হিসেবে খেলে পেট ভরাতে সাহায্য করতে পারে। ক্ষুধা কিছুটা কমিয়ে এবং হঠাৎ ক্ষুধা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এটি পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। করলার রসকে ওজন কমানোর সমাধানের পরিবর্তে একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।

৪. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে

করলায় ভিটামিন সি এবং পলিফেনলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় সহায়তা করে। প্রতিদিন করলার রস পান করলে সময়ের ধীরে ধীরে সামগ্রিক কোষীয় স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যদিও এটি সব কিছুর নিরাময় নয়, তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৫. হরমোন এবং বিপাকীয় ভারসাম্য

প্রতিদিন করলার রস খেলে তা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং খাবারের পরে গ্লুকোজ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যদি আপনি হাইপোগ্লাইসেমিক ওষুধ সেবন করেন, তাহলে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। করলা রস প্রদাহ বিরোধী এবং শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। এর ফলে এটি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যা ঘটে

আপডেট সময় ০১:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

করলার রস এমন একটি খাবার যা বেশিরভাগ মানুষের কাছেই পছন্দের নয়। তীব্র তিক্ততার জন্য পরিচিত করলার রস ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া প্রতিকারের অংশ, বিশেষ করে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। অনেকের মধ্যে প্রতিদিন করলার রস পান করা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তবে এর প্রভাব সোশ্যাল মিডিয়ার মতো নাটকীয় বা তাৎক্ষণিক নয়। বেশিরভাগ প্রাকৃতিক খাবারের মতো, করলার রস সুষম খাবার এবং জীবনযাত্রার অভ্যাসের সঙ্গে মিলিত হলে ধীরে ধীরে এবং সর্বোত্তমভাবে কাজ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে কী ঘটে-

১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে

সকালের রুটিনে করলার রস রাখার একটি দীর্ঘস্থায়ী কারণ হলো এর গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার ক্ষমতা। করলায় রয়েছে চ্যারান্টিন এবং পলিপেপটাইড-পি এর মতো যৌগ যা রক্তে শর্করার প্রভাবের জন্য পরিচিত। করলার রস ইনসুলিনকে সক্রিয় করে তোলে। ইনসুলিন সক্রিয় থাকলে সুগার পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহৃত হবে এবং চর্বিতে রূপান্তরিত হবে না, যা ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

২. হজম এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে

প্রতিদিন করলার রস পান করলে হজম এনজাইম উদ্দীপিত হতে পারে, যা মসৃণ হজমে সহায়তা করতে পারে। এর প্রাকৃতিক তিক্ততা পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে, যা পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। তেতো সবজি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। করলা প্রাকৃতিকভাবে ফাইবার সমৃদ্ধ, যা অন্ত্রের আরামে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে বা খালি পেটে এটি খেলে তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের জন্য।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

করলার রসে ক্যালোরি কম থাকে এবং এতে ফাইবার থাকে, যা সুষম রুটিনের অংশ হিসেবে খেলে পেট ভরাতে সাহায্য করতে পারে। ক্ষুধা কিছুটা কমিয়ে এবং হঠাৎ ক্ষুধা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এটি পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। করলার রসকে ওজন কমানোর সমাধানের পরিবর্তে একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।

৪. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে

করলায় ভিটামিন সি এবং পলিফেনলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় সহায়তা করে। প্রতিদিন করলার রস পান করলে সময়ের ধীরে ধীরে সামগ্রিক কোষীয় স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যদিও এটি সব কিছুর নিরাময় নয়, তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৫. হরমোন এবং বিপাকীয় ভারসাম্য

প্রতিদিন করলার রস খেলে তা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং খাবারের পরে গ্লুকোজ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যদি আপনি হাইপোগ্লাইসেমিক ওষুধ সেবন করেন, তাহলে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। করলা রস প্রদাহ বিরোধী এবং শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। এর ফলে এটি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে।