সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে : আরাগচি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে গুজব ছাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইরানে ফের মার্কিন আগ্রাসন চালানোর জন্য ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৈয়দ আরাগচি বলেন, “প্রথম ১০ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। সে সময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি; কিন্তু তারপর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হওয়া শুরু করে। বিক্ষোভের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা শুরু হলো, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা শুরু হলো এবং পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার অবস্থা হলো।”

“বিশেষ করে গত তিন দিন ধরে যা হচ্ছে…বিক্ষোভের নেতৃত্ব এখন আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হাতে নেই। এটি এখন সন্ত্রাসীদের কব্জায় চলে গেছে এবং সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে এসব সন্ত্রাসীদের সংঘাত হচ্ছে।”

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েনপুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংখাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

ইরানে যে হতাহতের ঘটনা ঘটছে, তা স্বীকার করেছেন আরাগচি; কিন্তু একই সঙ্গে দাবি করেছেন— হতাহতের যে সংখ্যা বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হচ্ছে— তা সঠিক নয়। ফক্স নিউজকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু নিহতের সংখ্যা ঘটেছে— কিন্তু সেই সংখ্যা কোনোভাবেই কয়েক শ’-এর বেশি হবে না। বাইরে যে সংখ্যা প্রচারিত হচ্ছে তা গুজব এবং ইসরায়েলি চক্রান্ত। ইরানে ফের সামরিক হামলার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে : আরাগচি

আপডেট সময় ০৩:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে গুজব ছাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইরানে ফের মার্কিন আগ্রাসন চালানোর জন্য ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৈয়দ আরাগচি বলেন, “প্রথম ১০ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। সে সময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি; কিন্তু তারপর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হওয়া শুরু করে। বিক্ষোভের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা শুরু হলো, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা শুরু হলো এবং পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার অবস্থা হলো।”

“বিশেষ করে গত তিন দিন ধরে যা হচ্ছে…বিক্ষোভের নেতৃত্ব এখন আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হাতে নেই। এটি এখন সন্ত্রাসীদের কব্জায় চলে গেছে এবং সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে এসব সন্ত্রাসীদের সংঘাত হচ্ছে।”

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েনপুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংখাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

ইরানে যে হতাহতের ঘটনা ঘটছে, তা স্বীকার করেছেন আরাগচি; কিন্তু একই সঙ্গে দাবি করেছেন— হতাহতের যে সংখ্যা বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হচ্ছে— তা সঠিক নয়। ফক্স নিউজকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু নিহতের সংখ্যা ঘটেছে— কিন্তু সেই সংখ্যা কোনোভাবেই কয়েক শ’-এর বেশি হবে না। বাইরে যে সংখ্যা প্রচারিত হচ্ছে তা গুজব এবং ইসরায়েলি চক্রান্ত। ইরানে ফের সামরিক হামলার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে।