সংবাদ শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিলেন কেইনকে কালো জাদু করা ঘানার সেই তান্ত্রিক দেশের ৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী দুর্নীতি মামলায় টিউলিপসহ ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিরাজুল ও জ্বালানি সচিব সাইফুলের সিন্ডিকেটে কোটি টাকা আত্মসাত মনোহরগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, হাবিবসহ তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড আত্রাইয়ে ১৯৩ কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু

অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:২১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩৩ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তিনি সপ্তাহের অধিকাংশ দিন সকাল নয়টায় অফিসে উপস্থিত থাকেন না। সরকারি নির্ধারিত সময়ের বাইরে খেয়ালখুশি মত অফিসে আসার কারণে অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খোঁজ নেওয়া হলেও তিনি অফিসে ছিলেন না। সকাল ১১টায় গিয়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের দাবি, এই দৃশ্য নতুন নয়, যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত এ ধরনের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “স্যারের বাসা ফরিদপুর জেলা সদরে। তিনি সেখান থেকে প্রতিদিন অফিসে আসেন। কিন্তু প্রায়ই সকালবেলা অফিসে উপস্থিত হন না। কখনো বেলা ১১টার দিকে, কখনো দুপুরের দিকে উপস্থিত হন। এতে অফিসের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা সদর থেকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। বাসে এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনে দূরত্ব কোনো অজুহাত হতে পারে না। অভিভাবক এবং স্থানীয় স্কুল প্রধানদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবশ্যই অফিসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত থাকা জরুরি।

এক প্রধান শিক্ষক বলেন, “বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, অনুমোদন বা জরুরি বিষয়ে অফিসে এসে স্যারকে না পেয়ে আমাদের বারবার ফিরে যেতে হয়। এতে সময় এবং অর্থ—দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের অনেকেই অনলাইনে কাজ শেষ করতে পারি না। সবকিছু তার উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল।”

অফিস ফাঁকির অভিযোগ শুধু শিক্ষক বা অভিভাবকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উদ্বিগ্ন। তারা জানান, রফিকুল ইসলামের নিয়মিত অনুপস্থিতি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে বিঘ্নিত করছে। অফিসে আসা সার্টিফিকেট বা অনুমোদন, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিসাব সংক্রান্ত কাজ, শিক্ষাগত প্রকল্পের নথি বা ত্রুটিমুক্ত তথ্য প্রেরণ—all কিছুই সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। নিয়মিত অনুপস্থিতি বা বিলম্বে উপস্থিতি শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে। কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করেন, অফিসের দায়িত্ব পালনে এই ধরনের অসঙ্গতি শিক্ষার্থীদের উপকার ও সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানের শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প সবকিছুই অফিসের নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে কার্যকর না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতা না থাকলে তার প্রভাব পড়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উপর।”

স্থানীয় সাংবাদিক ও স্টাফ রিপোর্টাররা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অফিসের নিয়মিত উপস্থিতি ও অন্যান্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ফরিদপুর জেলা সদর থেকে দৈনন্দিন যাতায়াত করেন। বাসে ৫২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। এর ফলে সকাল নয়টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়া তার জন্য নিয়মিতভাবেই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এটিকে কোনো যৌক্তিক কারণ হিসেবে মানা যায় না।

অফিসে উপস্থিত এক কর্মকর্তা আরও জানান, “কর্মকর্তা যখন অফিসে থাকেন না, তখন অফিসের নথি যাচাই, শিক্ষকদের রিপোর্ট গ্রহণ ও প্রকল্প অনুমোদন—এই সব কাজ স্তব্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব পড়ে। আমাদের এখানে অনেক অভিভাবক সমস্যা নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা বারবার ফিরে যান কারণ অফিসের প্রধান উপস্থিত থাকেন না।”

একাধিক সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলামের অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমস্যা। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনি সপ্তাহে কয়েকদিন অফিসের নির্ধারিত সময়ে আসেন না। অনেকে বলেন, “যতবার দরকার হয়, ততবার অফিস বন্ধ থাকে। এতে শিক্ষার মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যায়।”

অফিসে উপস্থিত অন্য কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। অনুপস্থিতির কারণে কাজের দফতর

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিলেন কেইনকে কালো জাদু করা ঘানার সেই তান্ত্রিক

অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম

আপডেট সময় ০১:২১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তিনি সপ্তাহের অধিকাংশ দিন সকাল নয়টায় অফিসে উপস্থিত থাকেন না। সরকারি নির্ধারিত সময়ের বাইরে খেয়ালখুশি মত অফিসে আসার কারণে অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খোঁজ নেওয়া হলেও তিনি অফিসে ছিলেন না। সকাল ১১টায় গিয়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের দাবি, এই দৃশ্য নতুন নয়, যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত এ ধরনের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “স্যারের বাসা ফরিদপুর জেলা সদরে। তিনি সেখান থেকে প্রতিদিন অফিসে আসেন। কিন্তু প্রায়ই সকালবেলা অফিসে উপস্থিত হন না। কখনো বেলা ১১টার দিকে, কখনো দুপুরের দিকে উপস্থিত হন। এতে অফিসের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা সদর থেকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। বাসে এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনে দূরত্ব কোনো অজুহাত হতে পারে না। অভিভাবক এবং স্থানীয় স্কুল প্রধানদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবশ্যই অফিসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত থাকা জরুরি।

এক প্রধান শিক্ষক বলেন, “বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, অনুমোদন বা জরুরি বিষয়ে অফিসে এসে স্যারকে না পেয়ে আমাদের বারবার ফিরে যেতে হয়। এতে সময় এবং অর্থ—দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের অনেকেই অনলাইনে কাজ শেষ করতে পারি না। সবকিছু তার উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল।”

অফিস ফাঁকির অভিযোগ শুধু শিক্ষক বা অভিভাবকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উদ্বিগ্ন। তারা জানান, রফিকুল ইসলামের নিয়মিত অনুপস্থিতি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে বিঘ্নিত করছে। অফিসে আসা সার্টিফিকেট বা অনুমোদন, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিসাব সংক্রান্ত কাজ, শিক্ষাগত প্রকল্পের নথি বা ত্রুটিমুক্ত তথ্য প্রেরণ—all কিছুই সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। নিয়মিত অনুপস্থিতি বা বিলম্বে উপস্থিতি শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে। কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করেন, অফিসের দায়িত্ব পালনে এই ধরনের অসঙ্গতি শিক্ষার্থীদের উপকার ও সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানের শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প সবকিছুই অফিসের নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে কার্যকর না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতা না থাকলে তার প্রভাব পড়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উপর।”

স্থানীয় সাংবাদিক ও স্টাফ রিপোর্টাররা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অফিসের নিয়মিত উপস্থিতি ও অন্যান্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ফরিদপুর জেলা সদর থেকে দৈনন্দিন যাতায়াত করেন। বাসে ৫২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। এর ফলে সকাল নয়টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়া তার জন্য নিয়মিতভাবেই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এটিকে কোনো যৌক্তিক কারণ হিসেবে মানা যায় না।

অফিসে উপস্থিত এক কর্মকর্তা আরও জানান, “কর্মকর্তা যখন অফিসে থাকেন না, তখন অফিসের নথি যাচাই, শিক্ষকদের রিপোর্ট গ্রহণ ও প্রকল্প অনুমোদন—এই সব কাজ স্তব্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব পড়ে। আমাদের এখানে অনেক অভিভাবক সমস্যা নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা বারবার ফিরে যান কারণ অফিসের প্রধান উপস্থিত থাকেন না।”

একাধিক সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলামের অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমস্যা। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনি সপ্তাহে কয়েকদিন অফিসের নির্ধারিত সময়ে আসেন না। অনেকে বলেন, “যতবার দরকার হয়, ততবার অফিস বন্ধ থাকে। এতে শিক্ষার মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যায়।”

অফিসে উপস্থিত অন্য কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। অনুপস্থিতির কারণে কাজের দফতর