ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জেনে নিন লবণ কাদের জন্য বিপজ্জনক

  • লাইফস্টাইল
  • আপডেট সময় ০২:০৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৮৬ বার পড়া হয়েছে

রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত। সব কিছুর দোষ গিয়ে পড়ে নিরীহ ওই লবণের ওপর। কারণ লবণে সোডিয়ামের মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকার কারণে ব্লাডপ্রেশার বেড়ে যায়। তবে রান্নায় লবণ শুধু স্বাদ বৃদ্ধির জন্য দেওয়া হয় না। শারীরবৃত্তীয় নানা কাজের জন্য লবণ খাওয়া হয়। অর্থাৎ সোডিয়ামের প্রয়োজন হয়। স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান, পেশির কাজকর্ম, শরীরে ফ্লুইডের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ— সব কিছুতেই লবণের ভূমিকা অপরিহার্য।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে— লবণ যদি এতটাই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হয়, তাহলে তার ঘাড়ে এত দোষ দেওয়া হয় কেন? এ প্রসঙ্গে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিমিত্রি ইয়ারানোভ বলেছেন, লবণ সবার জন্য ক্ষতিকর নয়; তবে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। কিন্তু কে কতটুকু লবণ খাবেন, তা চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদরা নির্ধারণ করে দেবেন। নিজে থেকে খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

তাহলে লবণ কি আমাদের শত্রু? কাদের জন্য বিপজ্জনক? এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক দিমিত্রি বলেন, ‘লবণ সবার জন্য ভিলেন নয়। মানবজাতি ধ্বংসের জন্য এই উপাদানকে কখনই দায়ী করা যায় না। শারীরবৃত্তীয় নানা কাজের জন্য সোডিয়াম প্রয়োজন। কিন্তু যারা আগে থেকেই কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে লবণ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে জন্য আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

চলুন জেনে নেওয়া যাক—

১. যাদের হার্টের রকম সমস্যা রয়েছে, তারা লবণ খাবারে সতর্ক থাকবেন। কারণ অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। আর তাতে ওয়াটার রিটেনশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি।

২. এই শীতে ঘুমের মধ্যে দরদর করে ঘামছেন? এমন হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আপনার রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত। তাই বেশি লবণ খাবেন না। আর রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তারা মেপে লবণ খাবেন।

৩. ক্রনিক কিডনি রোগের যারা ভুগছেন, তারাও লবণ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। বেশি লবণ খেলে শরীরে ফ্লুইডের পরিমাণ বাড়ে। তাতে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি।

৪. অনেক দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে থাকলে লিভারের ওপর প্রভাব পড়ে। লিভারে পানি জমে। সিরোসিস অব লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ব শ্রমিক দিবসে কুমিল্লায় তরুণদের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ

জেনে নিন লবণ কাদের জন্য বিপজ্জনক

আপডেট সময় ০২:০৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত। সব কিছুর দোষ গিয়ে পড়ে নিরীহ ওই লবণের ওপর। কারণ লবণে সোডিয়ামের মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকার কারণে ব্লাডপ্রেশার বেড়ে যায়। তবে রান্নায় লবণ শুধু স্বাদ বৃদ্ধির জন্য দেওয়া হয় না। শারীরবৃত্তীয় নানা কাজের জন্য লবণ খাওয়া হয়। অর্থাৎ সোডিয়ামের প্রয়োজন হয়। স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান, পেশির কাজকর্ম, শরীরে ফ্লুইডের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ— সব কিছুতেই লবণের ভূমিকা অপরিহার্য।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে— লবণ যদি এতটাই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হয়, তাহলে তার ঘাড়ে এত দোষ দেওয়া হয় কেন? এ প্রসঙ্গে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিমিত্রি ইয়ারানোভ বলেছেন, লবণ সবার জন্য ক্ষতিকর নয়; তবে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। কিন্তু কে কতটুকু লবণ খাবেন, তা চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদরা নির্ধারণ করে দেবেন। নিজে থেকে খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

তাহলে লবণ কি আমাদের শত্রু? কাদের জন্য বিপজ্জনক? এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক দিমিত্রি বলেন, ‘লবণ সবার জন্য ভিলেন নয়। মানবজাতি ধ্বংসের জন্য এই উপাদানকে কখনই দায়ী করা যায় না। শারীরবৃত্তীয় নানা কাজের জন্য সোডিয়াম প্রয়োজন। কিন্তু যারা আগে থেকেই কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে লবণ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে জন্য আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

চলুন জেনে নেওয়া যাক—

১. যাদের হার্টের রকম সমস্যা রয়েছে, তারা লবণ খাবারে সতর্ক থাকবেন। কারণ অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। আর তাতে ওয়াটার রিটেনশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি।

২. এই শীতে ঘুমের মধ্যে দরদর করে ঘামছেন? এমন হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আপনার রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত। তাই বেশি লবণ খাবেন না। আর রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তারা মেপে লবণ খাবেন।

৩. ক্রনিক কিডনি রোগের যারা ভুগছেন, তারাও লবণ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। বেশি লবণ খেলে শরীরে ফ্লুইডের পরিমাণ বাড়ে। তাতে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি।

৪. অনেক দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে থাকলে লিভারের ওপর প্রভাব পড়ে। লিভারে পানি জমে। সিরোসিস অব লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।