ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা ‘জামায়াত’ হঠাৎ করেই বদলে গেল জামালপুরে ধ্বংস করা হলো দুই ইটভাটার চিমনি, আটক ২ সংরক্ষিত নারী আসনের ৬৫ শতাংশই কোটিপতি : টিআইবি নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে কারাদণ্ড   ডাব পাড়া নিয়ে একজনকে ‍কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যায় সেই জনিরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ইউসিবির ৪৭ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারি: দুদকের ৭ মামলায় আসামি ৯৩

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির বিভিন্ন শাখা থেকে ভুয়া পরিচয়ে ৪৭ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে সাতটি পৃথক মামলায় ৯৩ জনকে আসামি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার এসব মামালা দায়ের করেন দুদক কর্মকর্তারা।

দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়ের করা এসব মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামের কৃষক, দিনমজুর ও দর্জিদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংকে চলতি হিসাব খুলে এবং অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে অন্তত ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, ‘কৃষক, দিনমজুর ও দর্জিসহ গ্রামের সাধারণ মানুষদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ আনুষঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আগেও এ ধরনের আত্মসাতের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইউসিবির চকবাজার, পাহাড়তলী, পোর্ট ও বহদ্দারহাট শাখায় হোছন ট্রেডিং, কর্ণফুলী এম্পোরিয়াম, জহির ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাটস আই করপোরেশন, শাহ ট্রেডিং, হারুন অ্যান্ড সন্স ও মল্লিক অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের ভুয়া বা কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খুলে ঋণ বিতরণ করা হয়। বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব ছিল না বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদক জানায়, তদন্তে দেখা গেছে ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা, শাখা ব্যবস্থাপক ও ক্রেডিট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স, জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা যাচাই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও নগদ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ব্যাংকটির পাহাড়তলী শাখায় ‘শাহ ট্রেডিং’-এর নামে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ আত্মসাতের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় ইউসিবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সিইও, একাধিক শাখা প্রধান, ক্রেডিট ও অপারেশন কর্মকর্তা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ইউসিবির সাবেক পরিচালক ও এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এবং সাবেক পরিচালক বশির আহমেদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে যে, তাদের প্রভাব ও নির্দেশনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে একই কৌশলে ঋণ নিয়ে অর্থ পাচার করেছে।

দুদকের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

ইউসিবির ৪৭ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারি: দুদকের ৭ মামলায় আসামি ৯৩

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির বিভিন্ন শাখা থেকে ভুয়া পরিচয়ে ৪৭ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে সাতটি পৃথক মামলায় ৯৩ জনকে আসামি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার এসব মামালা দায়ের করেন দুদক কর্মকর্তারা।

দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়ের করা এসব মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামের কৃষক, দিনমজুর ও দর্জিদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংকে চলতি হিসাব খুলে এবং অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে অন্তত ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, ‘কৃষক, দিনমজুর ও দর্জিসহ গ্রামের সাধারণ মানুষদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ আনুষঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আগেও এ ধরনের আত্মসাতের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইউসিবির চকবাজার, পাহাড়তলী, পোর্ট ও বহদ্দারহাট শাখায় হোছন ট্রেডিং, কর্ণফুলী এম্পোরিয়াম, জহির ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাটস আই করপোরেশন, শাহ ট্রেডিং, হারুন অ্যান্ড সন্স ও মল্লিক অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের ভুয়া বা কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খুলে ঋণ বিতরণ করা হয়। বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব ছিল না বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদক জানায়, তদন্তে দেখা গেছে ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা, শাখা ব্যবস্থাপক ও ক্রেডিট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স, জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা যাচাই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও নগদ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ব্যাংকটির পাহাড়তলী শাখায় ‘শাহ ট্রেডিং’-এর নামে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ আত্মসাতের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় ইউসিবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সিইও, একাধিক শাখা প্রধান, ক্রেডিট ও অপারেশন কর্মকর্তা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ইউসিবির সাবেক পরিচালক ও এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এবং সাবেক পরিচালক বশির আহমেদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে যে, তাদের প্রভাব ও নির্দেশনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে একই কৌশলে ঋণ নিয়ে অর্থ পাচার করেছে।

দুদকের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।