সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

৫১ বছরে প্রথমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশে ‘ডুমসডে প্লেন’

লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি একটি রহস্যময় বিমান দেখা গেছে। বিমানটি পরিচিত ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে। আকাশে উড়ন্ত পেন্টাগনের মতো গড়নের এই বিমানটি দেখেই কৌতূহল বাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার সময় হওয়ায় আলোচনা আরও তীব্র হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, বিমানটি অফাট এয়ার ফোর্স বেস থেকে মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প স্প্রিংসে যায়। জায়গাটি ওয়াশিংটন ডিসির কাছে। এরপর সেটি লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। সাধারণত এমন বিমান জনসমক্ষে দেখা যায় না। তাই দেশের ভেতরে এই উড্ডয়ন নজর কাড়ে।

এই বিমানটি মূলত জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি। পারমাণবিক হামলাতেও টিকে থাকার মতো করে নকশা করা হয়েছে। সরকার পরিচালনা সচল রাখাই এর কাজ। সে কারণেই এর নাম ‘ডুমসডে প্লেন’। এমন বিরল উড্ডয়ন দেখেই নানা গুঞ্জন ছড়ায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ওই বিমানে ছিলেন। তিনি ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ সফরের অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসে যান। নিউইয়র্ক পোস্ট এই তথ্য প্রকাশ করে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে তুলে ধরা। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে মানুষকে উৎসাহ দেওয়া। তবে কেন সাধারণ সরকারি বিমানের বদলে এই বিশেষ বিমান ব্যবহার করা হলো, সে বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। আগেও এমন ক্ষেত্রে বিস্তারিত বলা হয়নি।

‘ডুমসডে প্লেন’-এর আসল নাম বোয়িং ই–৪বি নাইটওয়াচ। এটি একটি ন্যাশনাল এয়ারবর্ন অপারেশনস সেন্টার। এটি আকাশে ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। জরুরি সময়ে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেয়। সরকার পরিচালনাও সচল রাখে।

এই বিমানটি পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭। এতে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস থেকে সুরক্ষা আছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। মাটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হলেও এটি কাজ চালাতে পারে। এমন মাত্র চারটি বিমান আছে। তাই জনসমক্ষে দেখা খুবই বিরল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘ই–৪বি হলো বোয়িং ৭৪৭–২০০-এর সামরিক সংস্করণ। এটি চার ইঞ্জিনের দীর্ঘপাল্লার বিমান। এটি আকাশে জ্বালানি নিতে পারে। ভেতরে ছয়টি অংশ আছে। এর মধ্যে কমান্ড এলাকা, কনফারেন্স কক্ষ, ব্রিফিং কক্ষ, অপারেশন টিমের জায়গা, যোগাযোগ এলাকা ও বিশ্রাম কক্ষ রয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১১১ জন বসতে পারেন। তাদের মধ্যে যৌথ অপারেশন টিম, বিমান বাহিনীর ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা দল এবং যোগাযোগ টিম থাকে।’

এই বিমানটি জ্বালানি ছাড়া টানা ১২ ঘণ্টা উড়তে পারে। আকাশে জ্বালানি নিলে সময় আরও বাড়ে। এটি মূলত আকাশের পেন্টাগন হিসেবেই কাজ

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

৫১ বছরে প্রথমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশে ‘ডুমসডে প্লেন’

আপডেট সময় ০৩:০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি একটি রহস্যময় বিমান দেখা গেছে। বিমানটি পরিচিত ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে। আকাশে উড়ন্ত পেন্টাগনের মতো গড়নের এই বিমানটি দেখেই কৌতূহল বাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার সময় হওয়ায় আলোচনা আরও তীব্র হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, বিমানটি অফাট এয়ার ফোর্স বেস থেকে মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প স্প্রিংসে যায়। জায়গাটি ওয়াশিংটন ডিসির কাছে। এরপর সেটি লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। সাধারণত এমন বিমান জনসমক্ষে দেখা যায় না। তাই দেশের ভেতরে এই উড্ডয়ন নজর কাড়ে।

এই বিমানটি মূলত জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি। পারমাণবিক হামলাতেও টিকে থাকার মতো করে নকশা করা হয়েছে। সরকার পরিচালনা সচল রাখাই এর কাজ। সে কারণেই এর নাম ‘ডুমসডে প্লেন’। এমন বিরল উড্ডয়ন দেখেই নানা গুঞ্জন ছড়ায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ওই বিমানে ছিলেন। তিনি ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ সফরের অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসে যান। নিউইয়র্ক পোস্ট এই তথ্য প্রকাশ করে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে তুলে ধরা। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে মানুষকে উৎসাহ দেওয়া। তবে কেন সাধারণ সরকারি বিমানের বদলে এই বিশেষ বিমান ব্যবহার করা হলো, সে বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। আগেও এমন ক্ষেত্রে বিস্তারিত বলা হয়নি।

‘ডুমসডে প্লেন’-এর আসল নাম বোয়িং ই–৪বি নাইটওয়াচ। এটি একটি ন্যাশনাল এয়ারবর্ন অপারেশনস সেন্টার। এটি আকাশে ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। জরুরি সময়ে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেয়। সরকার পরিচালনাও সচল রাখে।

এই বিমানটি পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭। এতে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস থেকে সুরক্ষা আছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। মাটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হলেও এটি কাজ চালাতে পারে। এমন মাত্র চারটি বিমান আছে। তাই জনসমক্ষে দেখা খুবই বিরল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘ই–৪বি হলো বোয়িং ৭৪৭–২০০-এর সামরিক সংস্করণ। এটি চার ইঞ্জিনের দীর্ঘপাল্লার বিমান। এটি আকাশে জ্বালানি নিতে পারে। ভেতরে ছয়টি অংশ আছে। এর মধ্যে কমান্ড এলাকা, কনফারেন্স কক্ষ, ব্রিফিং কক্ষ, অপারেশন টিমের জায়গা, যোগাযোগ এলাকা ও বিশ্রাম কক্ষ রয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১১১ জন বসতে পারেন। তাদের মধ্যে যৌথ অপারেশন টিম, বিমান বাহিনীর ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা দল এবং যোগাযোগ টিম থাকে।’

এই বিমানটি জ্বালানি ছাড়া টানা ১২ ঘণ্টা উড়তে পারে। আকাশে জ্বালানি নিলে সময় আরও বাড়ে। এটি মূলত আকাশের পেন্টাগন হিসেবেই কাজ