ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গৃহবধূর কাছে ঘুষ চেয়ে ‘বড় মাশুল’ গুনলেন এসআই হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না কুমিল্লায় কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত বরগুনার তালতলীতে নদীর তীরে ভেসে এলো বিশাল আকারে মৃত তিমি বড়লেখায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটিতে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বেরোবির বিজয়-২৪ হলে আধুনিকায়িত রিডিং রুম ও মসজিদ উদ্বোধন বিএনপি’র কান্ডারী ছাত্রনেতা তপন মাহমুদকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় মোহাম্মদপুরবাসী নওগাঁয় বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও মদ জব্দ

এআই-এর সাহায্যে বিয়ে, তারপর যা ঘটল…

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে জীবন আরামদায়ক করতে মানুষ নানা ধরনের প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে থাকে। কিন্তু হিতের বিপরীতে কপাল পুড়ল নেদারল্যান্ডসের এক নব দম্পতির। নিজের বিয়ের শপথ লিখতে পেশাদার কাজির পরিবর্তে বন্ধুকে বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব দেন ওই দম্পতি। বিয়েতে ভিন্নতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে শপথ বাক্য লিখেন তিনি। বিয়ে শেষে চ্যাটজিপিটির লেখা সেই বক্তব্যে আইনি শর্ত পূরণ না হওয়ায় বিয়ে বাতিল করে দেয় নেদারল্যান্ডসের জুইলা শহরের একটি আদালত।

নেদারল্যান্ডসের দেওয়ানি বিধির ১:৬৭ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় বিয়ের শপথ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনায় বলা আছে, হবু স্বামী-স্ত্রীকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীদের সামনে দুটি বিষয়ে সম্মতি জানাতে হবে। প্রথমত, তারা একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করছেন। দ্বিতীয়ত, দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে আইনত যেসব দায়িত্ব যুক্ত, তা তারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করবেন। গোপনীয়তার স্বার্থে আদালতের রায়ে ওই দম্পতির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ১৯ এপ্রিল ওই দম্পতির বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে যে শপথবাক্য পাঠ করা হয়েছিল, তা আইনি মানদণ্ডে টেকেনি। ফলে আদালতের নির্দেশে এখন শহরের রেজিস্ট্রি থেকে ওই বিয়ের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে পড়ানোর সময় সেই বন্ধু দম্পতিকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘জীবন যখন কঠিন হয়ে পড়বে, তখনো কি আপনারা একে অপরকে সমর্থন করবেন, একে অপরকে খেপাবেন এবং জড়িয়ে ধরে রাখবেন?’ দম্পতিকে তিনি ‘পাগলাটে’ হিসেবেও সম্বোধন করেন।

বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এসব কথাবার্তা মজার হতে পারে, কিন্তু এতে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনের সেই আইনি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ নেই।

বিয়ের ওই তারিখটির সঙ্গে দম্পতিটির আবেগ জড়িয়ে থাকায় তারা আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, আইনি ভাষা ব্যবহার না হলেও তাদের একে অপরকে বিয়ে করার ইচ্ছেটাই যেহেতু আসল, তাই ওই তারিখটিকেই যেন বিয়ের বৈধ তারিখ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কিন্তু ৫ জানুয়ারি দেওয়া রায়ে বলা হয়, ‘আদালত বুঝতে পারছে যে বিয়ের সনদে ওই নির্দিষ্ট তারিখটি এই নারী ও পুরুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আইন যা বলে তা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’ রায়ে চূড়ান্তভাবে বলা হয়, যেহেতু বিয়ের ঘোষণায় সংবিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ হয়নি, তাই সিভিল রেজিস্ট্রিতে বিয়ের সনদটি ভুলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গৃহবধূর কাছে ঘুষ চেয়ে ‘বড় মাশুল’ গুনলেন এসআই

এআই-এর সাহায্যে বিয়ে, তারপর যা ঘটল…

আপডেট সময় ০৭:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে জীবন আরামদায়ক করতে মানুষ নানা ধরনের প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে থাকে। কিন্তু হিতের বিপরীতে কপাল পুড়ল নেদারল্যান্ডসের এক নব দম্পতির। নিজের বিয়ের শপথ লিখতে পেশাদার কাজির পরিবর্তে বন্ধুকে বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব দেন ওই দম্পতি। বিয়েতে ভিন্নতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে শপথ বাক্য লিখেন তিনি। বিয়ে শেষে চ্যাটজিপিটির লেখা সেই বক্তব্যে আইনি শর্ত পূরণ না হওয়ায় বিয়ে বাতিল করে দেয় নেদারল্যান্ডসের জুইলা শহরের একটি আদালত।

নেদারল্যান্ডসের দেওয়ানি বিধির ১:৬৭ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় বিয়ের শপথ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনায় বলা আছে, হবু স্বামী-স্ত্রীকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীদের সামনে দুটি বিষয়ে সম্মতি জানাতে হবে। প্রথমত, তারা একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করছেন। দ্বিতীয়ত, দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে আইনত যেসব দায়িত্ব যুক্ত, তা তারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করবেন। গোপনীয়তার স্বার্থে আদালতের রায়ে ওই দম্পতির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ১৯ এপ্রিল ওই দম্পতির বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে যে শপথবাক্য পাঠ করা হয়েছিল, তা আইনি মানদণ্ডে টেকেনি। ফলে আদালতের নির্দেশে এখন শহরের রেজিস্ট্রি থেকে ওই বিয়ের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে পড়ানোর সময় সেই বন্ধু দম্পতিকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘জীবন যখন কঠিন হয়ে পড়বে, তখনো কি আপনারা একে অপরকে সমর্থন করবেন, একে অপরকে খেপাবেন এবং জড়িয়ে ধরে রাখবেন?’ দম্পতিকে তিনি ‘পাগলাটে’ হিসেবেও সম্বোধন করেন।

বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এসব কথাবার্তা মজার হতে পারে, কিন্তু এতে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনের সেই আইনি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ নেই।

বিয়ের ওই তারিখটির সঙ্গে দম্পতিটির আবেগ জড়িয়ে থাকায় তারা আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, আইনি ভাষা ব্যবহার না হলেও তাদের একে অপরকে বিয়ে করার ইচ্ছেটাই যেহেতু আসল, তাই ওই তারিখটিকেই যেন বিয়ের বৈধ তারিখ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কিন্তু ৫ জানুয়ারি দেওয়া রায়ে বলা হয়, ‘আদালত বুঝতে পারছে যে বিয়ের সনদে ওই নির্দিষ্ট তারিখটি এই নারী ও পুরুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আইন যা বলে তা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’ রায়ে চূড়ান্তভাবে বলা হয়, যেহেতু বিয়ের ঘোষণায় সংবিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ হয়নি, তাই সিভিল রেজিস্ট্রিতে বিয়ের সনদটি ভুলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এটি বাতিল বলে গণ্য হবে।