নোয়াখালীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত গোপনীয়তায় মাত্র ১৯ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এই লুটপাটের ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তোপের মুখে পড়ার পরদিন থেকে তিনি কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে তার দপ্তরে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি, তিনি পলাতক রয়েছেন। এর আগে রবিবার তাকে নিজ কার্যালয়ে দিনভর অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ঠিকাদার সমিতি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ড্যানিডা প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি সরকারি গুদামে রাখা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অত্যন্ত গোপনে এই নিলাম আয়োজন করা হয়। ফলে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতেই পারেননি।
এই সুযোগে গত ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ‘মেসার্স শাহনাজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৬ কোটি টাকার মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। নিলামের পর পরই রাতারাতি ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট পাইপসহ অন্যান্য সামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
মেসার্স এস এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘৩০ বছরের ঠিকাদারি জীবনে এমন প্রকাশ্য লুটপাট দেখিনি। ভেবেছিলাম জুলাই আন্দোলনের পর অনিয়ম কমবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।’’
এছাড়া প্রকৌশলী সাইফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ না দেওয়ায় কাজের কার্যাদেশ আটকে রাখা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ৯০ কোটি টাকার বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে সম্পন্ন হয়েছে, তার কোনো হাত নেই। তিনি পলাতক নন, বরং সাইট পরিদর্শনে ছিলেন বলে দাবি করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















