ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডব্লিউএইচওর নিয়োগে জালিয়াতি, চার্জশিটের অনুমোদন পেল দুদক তিন বছর পর ভারতে ফিরছে আইপিএলের নিলাম ফায়ার সার্ভিসে ডিডি ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দৈনিক ১০ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আহত ২ ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা, বিতরণ মাত্র ১৯ শতাংশ ট্রাম্পের মুখপাত্র জাকারিয়ার চাকরিচ্যুতি নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য রাজশাহীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ড্যাপের বিতর্কিত গেজেট বাতিল চায় আইপিডি মধ্যপাড়া পাথর খনির এমডি পদে পুনরায় যোগ দিলেন প্রকৌশলী ডি. এম. জোবায়েদ হোসেন কালোবাজারি চক্রের হাতে জিম্মি রেলের টিকিট, অভিযোগের কেন্দ্রে সহজ ডটকমের কর্মী

ঠাকুরগাঁওয়ে তাপমাত্রার পারদ নামল ৯ ডিগ্রিতে

হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের প্রকোপ সবসময়েই একটু বেশি থাকে। তবে গত দুই দিন ধরে সেখানে বইছে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চলতি শীত মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা মেলা ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুরের দিকে ঘণ্টাখানেকের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাতে উত্তাপ নেই বললেই চলে। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে পড়ে যে মনে হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

হাড়কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। কনকনে ঠান্ডার কারণে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকরা ঠিকমতো কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এবার সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের হার গত বছরগুলোর তুলনায় বেশ কম।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকরা এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম আবহাওয়ার পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, ‘‘সোমবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তাই বোরো ধান ও শীতকালীন ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’’


Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডব্লিউএইচওর নিয়োগে জালিয়াতি, চার্জশিটের অনুমোদন পেল দুদক

ঠাকুরগাঁওয়ে তাপমাত্রার পারদ নামল ৯ ডিগ্রিতে

আপডেট সময় ১২:৫২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের প্রকোপ সবসময়েই একটু বেশি থাকে। তবে গত দুই দিন ধরে সেখানে বইছে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চলতি শীত মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা মেলা ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুরের দিকে ঘণ্টাখানেকের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাতে উত্তাপ নেই বললেই চলে। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে পড়ে যে মনে হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

হাড়কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। কনকনে ঠান্ডার কারণে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকরা ঠিকমতো কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এবার সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের হার গত বছরগুলোর তুলনায় বেশ কম।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকরা এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম আবহাওয়ার পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, ‘‘সোমবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তাই বোরো ধান ও শীতকালীন ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’’