হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের প্রকোপ সবসময়েই একটু বেশি থাকে। তবে গত দুই দিন ধরে সেখানে বইছে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চলতি শীত মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা মেলা ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুরের দিকে ঘণ্টাখানেকের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাতে উত্তাপ নেই বললেই চলে। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে পড়ে যে মনে হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হাড়কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। কনকনে ঠান্ডার কারণে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকরা ঠিকমতো কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এবার সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের হার গত বছরগুলোর তুলনায় বেশ কম।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকরা এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম আবহাওয়ার পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, ‘‘সোমবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তাই বোরো ধান ও শীতকালীন ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’’
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















