চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের স্রোত যেন থামছেই না। দাফনের চতুর্থ দিনেও শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে তার সমাধি জিয়ারত করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। প্রিয় নেত্রীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে জিয়া উদ্যানে মানুষের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রিমা উদ্যানের (জিয়া উদ্যান) বেইলি ব্রিজ থেকে শুরু করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার কবর পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল হাতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন। সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের আনা ফুলে ফুলে ঢেকে গেছে সদ্য প্রয়াত এই নেত্রীর সমাধি।
এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপস্থিতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এছাড়া জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দল, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমবায় দল ও জিয়া সাংস্কৃতিক ফোরামসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনেকে সপরিবারে এসেও কবর জিয়ারত করছেন।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে আসা যুবদল কর্মী শিপন আবেদীন আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘রাজনৈতিক বুঝ হওয়ার পর থেকেই ম্যাডামকে দেখেছি। তার সংগ্রাম ও বক্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করত। তার মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। এক ধরনের দায়বদ্ধতা ও হৃদয়ের টান থেকেই আজ কবর জিয়ারত করতে এসেছি।’’
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। পরদিন স্মরণকালের বিশাল জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে সমাধি সবার জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকেই সেখানে মানুষের এই অবিরাম ঢল নেমেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















