কোনো প্রকার সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই নিজস্ব আয়ে পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবার আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠার পর গত ৫৪ বছরে বিমান এবারই সর্বোচ্চ মুনাফার মুখ দেখল।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) অনুষ্ঠিত বিমানের ১৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই ঈর্ষণীয় সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিন।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বিমানের মোট আয় হয়েছে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। এটি গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। সব খরচ বাদ দিয়ে অপারেশনাল মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকায়। আর কর ও অন্যান্য দায় মেটানোর পর নিট মুনাফা হয়েছে ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই নিয়ে টানা পঞ্চম বছরের মতো লাভের ধারা অব্যাহত রাখল জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি। গত এক দশকে ৯ বারই বিমান লাভের মুখ দেখেছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত অর্থবছরে বিমান তাদের ২১টি উড়োজাহাজের বহর নিয়ে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে। পাশাপাশি কার্গো বা পণ্য পরিবহনেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন মালামাল পরিবহন করে বিমান আয় করেছে ৯২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাত থেকেও বড় আয় এসেছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১ হাজার ১১২টি ফ্লাইটের ৬১ লাখ যাত্রীকে সেবা দিয়েছে বিমান।
বিমানের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমান ইতিহাসের সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড গড়েছিল। লাগেজ ডেলিভারি দ্রুত করা, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন এই আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সভায় জানানো হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে কঠোর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ফলেই এই রেকর্ড মুনাফা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং কার্গো সেবাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























