প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। গ্রামবাংলায় একে বলা হয় ‘সর্বরোগের মহৌষধ’। বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে রক্ত পরিষ্কার বা শোধন করতে নিমের জুড়ি মেলা ভার। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, নিয়মিত নিমের ব্যবহার কেবল রক্তই পরিষ্কার করে না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে করে তোলে শক্তিশালী ইস্পাতকঠিন।
নিমের পাতা, ছাল এবং বীজে রয়েছে নিম্বিন, নিম্বিডিন এবং কুয়েরসেটিনের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান। এই উপাদানগুলো মানুষের শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করতে এবং শরীর থেকে বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মানবদেহে লিভার বা যকৃতের প্রধান কাজ হলো শরীর থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে বের করা। নিম পাতা লিভারের এই কার্যক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্ত থেকে দূষিত উপাদানগুলো সহজেই অপসারিত হয় এবং রক্ত স্বাভাবিকভাবেই পরিষ্কার থাকে। এছাড়া নিমের শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙাল গুণ রক্তে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বংশবিস্তার রোধ করে।
রক্ত অপরিষ্কার থাকলে তার ছাপ পড়ে আমাদের ত্বকে। ব্রণ, ফোঁড়া, অ্যালার্জি বা চুলকানির মতো চর্মরোগের অন্যতম প্রধান কারণ দূষিত রক্ত। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত নিম পাতা সেবনে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়, যার ফলে ভেতর থেকেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং চর্মরোগের প্রকোপ কমে আসে।
নিমের আরেকটি বড় গুণ হলো এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহনাসক ক্ষমতা। এটি শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বুস্ট করে, ফলে রক্তবাহিত বিভিন্ন অসুখ থেকে শরীর সুরক্ষিত থাকে।
স্বাস্থ্য ডেস্ক 

























