মানবদেহের ‘ইঞ্জিন’ খ্যাত লিভার সুস্থ রাখা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। লিভার ঠিকঠাক কাজ না করলে শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের হতে পারে না, ফলে বিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আর এর হাত ধরেই শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে নানা জটিল রোগ। তবে খুব কঠিন কোনো নিয়মকানুন নয়, বরং এই শীতে হাতের কাছের পরিচিত কিছু উষ্ণ পানীয় পান করেই লিভারকে সতেজ রাখা সম্ভব। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ লিমা মহাজন।
পুষ্টিবিদ লিমা জানান, শাকসবজি ও ফলের রসের তৈরি ‘ডিটক্স ওয়াটার’ যেমন উপকারী, তেমনি শীতকালে কিছু গরম পানীয় লিভারের সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৩টি জাদুকরী পানীয় সম্পর্কে—
১. গ্রিন টি (Green Tea)
লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি এবং ফ্যাটি লিভারের জন্য মূলত দায়ী শরীরে জমে থাকা দূষিত কণা বা ‘ফ্রি র্যাডিকেলস’। গ্রিন টি-তে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘ক্যাটেচিন’ এই ফ্রি র্যাডিকেলস নিষ্ক্রিয় করতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন, তাদের লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় অনেক কম।
২. ব্ল্যাক কফি (Black Coffee)
কফি নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও লিভারের সুরক্ষায় চিনি ছাড়া কালো কফি বা ব্ল্যাক কফির জুড়ি নেই। আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, কফিতে রয়েছে পলিফেনল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পরিমিত কফি পান ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৩. আদা চা (Ginger Tea)
আদাকে বলা হয় ভেষজ গুণের খনি। এতে রয়েছে ৪০০টিরও বেশি জৈব সক্রিয় উপাদান এবং প্রায় ৪০ রকমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ২০১৬ সালে ‘হেপাটাইটিস মান্থলি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আদা সেবনে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে এবং লিভার শর্করা ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরের কাজটি সুষ্ঠুভাবে করতে পারে। শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় গরম চায়ের সঙ্গে আদা কুচি মিশিয়ে খেলে তা লিভারের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ ও প্রদাহ কমাতে অব্যর্থ ওষুধের মতো কাজ করে।
লাইফস্টাইল ডেস্ক 

























