ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশু সাজিদকে উদ্ধারে চলছে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শিশু সাজিদকে (২) উদ্ধারে চলছে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিটের ২১ ঘণ্টার অভিযানেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শিশুটি ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু একটি গর্ত দিয়ে মাটির ৩৫ ফুট গভীরে পড়ে গেছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। তিনি কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জানান, তারা আসার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখন কিছু মাটি গর্তে পড়ে গেছে। তাদের তিনটি ইউনিট বুধবার দুপুর থেকে সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখনও চলছে। শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য তারা পাইপ দিয়ে অক্সিজেন নিচে নামিয়েছেন। স্কেভেটর দিয়ে খননের কাজ শেষ হয়েছে। তবে আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের পাশের এ জমিটির মালিক কছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। এক বছর আগে কছির উদ্দিন তার জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৫ ফুট বোরিং করার পর সেখানে পানি পাননি। তাই নলকূপ বসানো হয়নি। একবছর ধরে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তটি সেভাবেই পড়ে ছিল।

বুধবার দুপুরে শিশুটির মা ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যান। ওই সময় সাজিদ খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে মাটির ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

পরে ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। গর্তের পাশে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু সাজিদকে উদ্ধারে চলছে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

আপডেট সময় ০৬:১৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শিশু সাজিদকে (২) উদ্ধারে চলছে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিটের ২১ ঘণ্টার অভিযানেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শিশুটি ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু একটি গর্ত দিয়ে মাটির ৩৫ ফুট গভীরে পড়ে গেছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। তিনি কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জানান, তারা আসার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখন কিছু মাটি গর্তে পড়ে গেছে। তাদের তিনটি ইউনিট বুধবার দুপুর থেকে সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখনও চলছে। শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য তারা পাইপ দিয়ে অক্সিজেন নিচে নামিয়েছেন। স্কেভেটর দিয়ে খননের কাজ শেষ হয়েছে। তবে আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের পাশের এ জমিটির মালিক কছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। এক বছর আগে কছির উদ্দিন তার জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৫ ফুট বোরিং করার পর সেখানে পানি পাননি। তাই নলকূপ বসানো হয়নি। একবছর ধরে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তটি সেভাবেই পড়ে ছিল।

বুধবার দুপুরে শিশুটির মা ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যান। ওই সময় সাজিদ খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে মাটির ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

পরে ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। গর্তের পাশে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছে।