রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের মহিষী বেগম রোকেয়ার জন্ম ও প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গঠিত ৯ ডিসেম্বরের মেলা কমিটিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে বেগম রোকেয়ার স্মৃতি ধরে রাখা বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এবার বাদ পড়েছেন কমিটি থেকে।
এক অনুসন্ধানে জানা যায়, নতুন কমিটিতে কৃষক দলের পদবি ব্যবহার ৩নং পায়রাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বড় ভাইকে যুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের জারিকৃত নোটিশেও বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অথচ ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বেগম রোকেয়া দিবস উদ্যাপন কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে সমাজ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে আসছেন স্মৃতি সংসদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রটোকল ভেঙে একধরনের পারিবারিক প্রভাবেই এবারের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৩নং পায়রাবন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে জানান,আমি জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো বৈঠকে ছিলাম না। তবুও কেন আমাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে তা জানি না আর তদন্ত ছাড়া বলার মতো কিছু নেই আমার।
৩নং পায়রাবন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন,আমি স্পষ্টভাবে বলেছিলাম স্মৃতি কেন্দ্রের সভাপতি বা সেক্রেটারিকে রাখার জন্য। আমার কথা রাখা হয়নি। কৃষক দলের নাম ব্যবহারের বিষয়টিও ভুল হয়েছে। তাজুল ইসলাম মূল দলের ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি—এই কারণেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।”
বিএনপি’র উপজেলা কৃষকদলের সদস্য–সচিব এনামুল হক বলেন,কৃষক দলের পদবি ব্যবহার করে তাজুল ইসলামকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিনি আমাদের দলের কেউ নন। বিষয়টি শুনেছি, খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে, তাজুল ইসলাম জানান,আমি বিএনপি’র মূল দলের ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি; কৃষক দলের কেউ নই। কীভাবে কৃষক দলের নাম ব্যবহার করে আমাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”আমি যেহেতু বিএনপির মূল দলের ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি এই জন্য অত্র মেলা কমিটিতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,
“আমি মাত্র তিন দিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। অনেককে চিনি না। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাঠানো নামগুলোই আমরা প্রাধান্য দিয়েছি।”
বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন,
“১৯৯৪ সাল থেকে আমরা বেগম রোকেয়ার স্মৃতি ধারণ করে কাজ করে আসছি। আমাদের জন্য রোকেয়া শুধু ৩ দিনের নয়—৩৬৫ দিনের প্রেরণা। অতিথিরা এলে আমরা নিজ হাতে তাদের দর্শনীয় স্থান দেখাই। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জানেন আমাদের ভূমিকা। তারপরও কমিটিতে আমাদের স্থান না পাওয়া—এ এক বড় আক্ষেপ।”
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে। প্রশাসনের গঠিত নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
শহিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি 
























