ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

‎পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

‎দিনের শুরুতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর শহীদদের সম্মান জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসন এর পর বীর মুক্তিযোদ্ধাগণসহ অন্যান্যরা। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে

‎সকলেই ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। ‎ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ‎সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল বাইন এর সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎আলোচনা সভায় উপস্থিত স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রায়হানুল হক মিয়া, হরিপুর প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সাংবাদিক মো. আব্দুর রশিদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু নগেন কুমার পাল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল হরিপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শাবানা পারভীন, উপজেলা জামায়াত প্রতিনিধি মো. মঞ্জুর আলম ,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ও হরিপুর উপজেলা শাখার কমান্ডার মো. সোলায়মান আলী । আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।

‎ ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এইদিনে ঠাকুরগাঁও জেলা হানাদার মুক্ত হয়। এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাকিস্থানী সেনা ও তাদের দোসররা আত্মসমর্পণ করে ও পালিয়ে যায়। ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতার মুক্তির মন্ত্রে দিক্ষিত হয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধারা।

‎ মুক্তিকামী তরুনেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে রনাঙ্গনে। যার যেমন সাধ্য পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শুরু করে। প্রায় বিনা বাঁধায় পাক বাহিনী সেনারা ঠাকুরগাঁও শহর দখলে নিয়ে নেয়। চলে পৈশাচিক নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা। ২৯ ও ৩০ মে ঠাকুরগাঁও বর্বর পাক সেনারা জেল খানায় অসংখ্য জনকেগুলি করে হত্যা করে। এদিকে নবম সেক্টরের সাব-সেক্টরে অধীনে ছিল তৎকালীন মহাকুমা। ওদিকে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা এলাকায় ফিরে আসেন। নবম সেক্টরের সাব-সেক্টরের অধীনে ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের ২১ জনের একটি দল নৌকা যোগে এসে অবস্থান নেন। ফজরের আযান কে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে আযানের সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে গুলি শুরু করেন। এতে আতংকিত পাক বাহীনির সদস্যদের অনেকে পালিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় গুলি করতে করতে জেলখানায় পৌঁছুলে জেলখানায় অবস্থানরত পাক সমর্থক পুলিশ ও তাদের দোসর রাজাকারদের আত্মসমর্পন করে, হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁও বিজয়ী এমন কয়েকজন ইতিহাসের স্বাক্ষী বীরসেনানী জানান সেই স্মৃতিময় সময়ের বীরত্বকাব্য।

‎স্বাধীনতার ৫০ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তিতে ব্যর্থতা, ভূয়াদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় স্থান পাওয়া ও রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায় ক্ষোভ যোদ্ধাদের।

‎মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ জাতির যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন যেসব মুক্তিকামী যোদ্ধারা, তাঁদের কার্যত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র উন্নতির শিখর পৌঁছবে স্বপ্নের সোনার বাংলা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‎পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

আপডেট সময় ০৪:৪৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

‎দিনের শুরুতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর শহীদদের সম্মান জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসন এর পর বীর মুক্তিযোদ্ধাগণসহ অন্যান্যরা। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে

‎সকলেই ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। ‎ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ‎সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল বাইন এর সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎আলোচনা সভায় উপস্থিত স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রায়হানুল হক মিয়া, হরিপুর প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সাংবাদিক মো. আব্দুর রশিদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু নগেন কুমার পাল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল হরিপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শাবানা পারভীন, উপজেলা জামায়াত প্রতিনিধি মো. মঞ্জুর আলম ,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ও হরিপুর উপজেলা শাখার কমান্ডার মো. সোলায়মান আলী । আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।

‎ ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এইদিনে ঠাকুরগাঁও জেলা হানাদার মুক্ত হয়। এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাকিস্থানী সেনা ও তাদের দোসররা আত্মসমর্পণ করে ও পালিয়ে যায়। ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতার মুক্তির মন্ত্রে দিক্ষিত হয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধারা।

‎ মুক্তিকামী তরুনেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে রনাঙ্গনে। যার যেমন সাধ্য পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শুরু করে। প্রায় বিনা বাঁধায় পাক বাহিনী সেনারা ঠাকুরগাঁও শহর দখলে নিয়ে নেয়। চলে পৈশাচিক নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা। ২৯ ও ৩০ মে ঠাকুরগাঁও বর্বর পাক সেনারা জেল খানায় অসংখ্য জনকেগুলি করে হত্যা করে। এদিকে নবম সেক্টরের সাব-সেক্টরে অধীনে ছিল তৎকালীন মহাকুমা। ওদিকে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা এলাকায় ফিরে আসেন। নবম সেক্টরের সাব-সেক্টরের অধীনে ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের ২১ জনের একটি দল নৌকা যোগে এসে অবস্থান নেন। ফজরের আযান কে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে আযানের সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে গুলি শুরু করেন। এতে আতংকিত পাক বাহীনির সদস্যদের অনেকে পালিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় গুলি করতে করতে জেলখানায় পৌঁছুলে জেলখানায় অবস্থানরত পাক সমর্থক পুলিশ ও তাদের দোসর রাজাকারদের আত্মসমর্পন করে, হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁও বিজয়ী এমন কয়েকজন ইতিহাসের স্বাক্ষী বীরসেনানী জানান সেই স্মৃতিময় সময়ের বীরত্বকাব্য।

‎স্বাধীনতার ৫০ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তিতে ব্যর্থতা, ভূয়াদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় স্থান পাওয়া ও রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায় ক্ষোভ যোদ্ধাদের।

‎মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ জাতির যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন যেসব মুক্তিকামী যোদ্ধারা, তাঁদের কার্যত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র উন্নতির শিখর পৌঁছবে স্বপ্নের সোনার বাংলা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।