ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পরিবেশ খাতে আইনের শাসন-ন্যায় বিচার নিশ্চিতে বিচারকদের কর্মশালা চট্টগ্রামে কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁকে লাখ টাকা জরিমানা আইইউবিতে মঞ্চস্থ হলো ইবসেনের কালজয়ী নাটকের আধুনিক রূপ নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান রাষ্ট্রপতি : রয়টার্স স্থানীয় সরকারে আদিলুর, তথ্যে রিজওয়ানা, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পেলেন আসিফ নজরুল ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ নিয়ম ভাঙলেই এক্রিডিটেশন বাতিল, হুঁশিয়ারি বিসিবির ৩২ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি শিশু সাজিদের, হাল ছাড়ছে না ফায়ার সার্ভিস দাফনের সময় কবরে পড়ে যায় মোবাইল, এক রাত পর মাটি সরিয়ে উদ্ধার তারাগঞ্জে গোপন নিয়োগ ও সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে মানববন্ধন

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ অবিলম্বে বাতিলের দাবি

পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছরে পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি ও উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য আরও বেড়েছে এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান পরিষদের মহাসচিব মো. আলমগীর কবির।
আলোচনা সভায় তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তির দীর্ঘ ২৮ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র, হত্যা, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

উপজাতিদের ছয়টি সশস্ত্র সংগঠন নিয়মিত এ সব অপরাধে জড়িত এবং বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার বাঙালি জনগোষ্ঠীকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেনা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও প্রাণ দিয়েছেন।

পরিষদের মহাসচিব বলেন, চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল– পার্বত্য অঞ্চলে কোনো অবৈধ অস্ত্র থাকবে না। কিন্তু ২৮ বছরে অবৈধ অস্ত্র বরং আরও বেড়েছে এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলকে উপজাতি-উদ্যেশিত অঞ্চল ঘোষণা করে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চুক্তি মোতাবেক ২৩৯টি সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে, ৩টি ধারা বাস্তবায়নাধীন এবং ৪টি আংশিকভাবে বাস্তবায়িত। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রত্যাহার করা সেনা ক্যাম্পগুলো পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, সেনা ও বিজিবি ক্যাম্প বাড়ানো এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা জরুরি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও বাতিল এখন সময়ের দাবি।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবেশ খাতে আইনের শাসন-ন্যায় বিচার নিশ্চিতে বিচারকদের কর্মশালা

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ অবিলম্বে বাতিলের দাবি

আপডেট সময় ০৪:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছরে পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি ও উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য আরও বেড়েছে এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান পরিষদের মহাসচিব মো. আলমগীর কবির।
আলোচনা সভায় তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তির দীর্ঘ ২৮ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র, হত্যা, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

উপজাতিদের ছয়টি সশস্ত্র সংগঠন নিয়মিত এ সব অপরাধে জড়িত এবং বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার বাঙালি জনগোষ্ঠীকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেনা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও প্রাণ দিয়েছেন।

পরিষদের মহাসচিব বলেন, চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল– পার্বত্য অঞ্চলে কোনো অবৈধ অস্ত্র থাকবে না। কিন্তু ২৮ বছরে অবৈধ অস্ত্র বরং আরও বেড়েছে এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলকে উপজাতি-উদ্যেশিত অঞ্চল ঘোষণা করে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চুক্তি মোতাবেক ২৩৯টি সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে, ৩টি ধারা বাস্তবায়নাধীন এবং ৪টি আংশিকভাবে বাস্তবায়িত। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রত্যাহার করা সেনা ক্যাম্পগুলো পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, সেনা ও বিজিবি ক্যাম্প বাড়ানো এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা জরুরি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও বাতিল এখন সময়ের দাবি।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।