ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে শখের বশে আখ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন হায়দার মিয়া

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী হায়দার মিয়া শখের বসে শুরু করেছেন ব্যতিক্রমী আখ চাষ। পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলা মিঠাপুকুর থেকে ‘চায়না থ্রি’ নামে পরিচিত উন্নত জাতের আখের বীজ সংগ্রহ করে তিনি ১২০ শতাংশ জমিতে এই আবাদ গড়ে তুলেছেন।

চাষকৃত আখগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। ক্ষেতের চারপাশ চিকন নেট দিয়ে ঘেরা হয়েছে। গরু, ছাগল, কুকুর, শিয়াল এমনকি শিশুদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হায়দার মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

বর্তমানে আখের বয়স ৮ থেকে ৯ মাস। ইতোমধ্যে গাছগুলো ৮ থেকে ৯ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। এটি এক বছরের ফসল হওয়ায় পরিপূর্ণতা পেলে আখের দৈর্ঘ্য ১২ থেকে ১৪ হাত হবে বলে আশা করছেন তিনি। প্রতিটি আখের দাম ২০ থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন হায়দার মিয়া। সে হিসেবে এই ক্ষেত থেকে তিনি ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার স্বপ্ন দেখছেন।

বাজারজাতকরণ নিয়ে তিনি তেমন কোনো দুশ্চিন্তায় নেই। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা পর্যন্ত একাধিক পাইকারি ক্রেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে এলাকায় এককভাবে এই আবাদ করায় কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। চুরি ও পশুর আক্রমণের আশঙ্কা সবসময় থাকে। হায়দার মিয়া বলেন, “এলাকায় যদি একাধিক কৃষক এই আবাদ করত, তাহলে ঝুঁকি কমত, বাজারজাত করাও আরও সহজ হতো।”

তিনি আরও জানান, এই আখের পাতা, ছাল ও ঢাল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আবার গরুর খাদ্য হিসেবেও উপযোগী। শুকনো পাতা ঘরের ছাউনি তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, এই আখ থেকে গুড় তৈরি করাও সহজ এবং লাভজনক।

তবে দুঃখের বিষয়—এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা পাননি। হায়দার মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষি দপ্তরকে নানাভাবে যোগাযোগ করলেও তারা কোনোভাবেই সাড়া দেয়নি। যদি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেতাম, তাহলে এই আবাদ আরও উন্নত হতো, এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এলাকায় এই আবাদ নিয়ে কৃষি দপ্তরের তেমন কোনো সম্প্রসারণ বা সহযোগিতা নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেলে এই আবাদ অনেক ছড়িয়ে পড়ত। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতো।”

এই আখের ক্ষেত এখন শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উৎস নয়, বন্য পাখিদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। সকাল-সন্ধ্যায় পাখির কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত থাকে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নেয়।

স্থানীয়দের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে হায়দার মিয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগঞ্জে শখের বশে আখ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন হায়দার মিয়া

আপডেট সময় ০১:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী হায়দার মিয়া শখের বসে শুরু করেছেন ব্যতিক্রমী আখ চাষ। পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলা মিঠাপুকুর থেকে ‘চায়না থ্রি’ নামে পরিচিত উন্নত জাতের আখের বীজ সংগ্রহ করে তিনি ১২০ শতাংশ জমিতে এই আবাদ গড়ে তুলেছেন।

চাষকৃত আখগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। ক্ষেতের চারপাশ চিকন নেট দিয়ে ঘেরা হয়েছে। গরু, ছাগল, কুকুর, শিয়াল এমনকি শিশুদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হায়দার মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

বর্তমানে আখের বয়স ৮ থেকে ৯ মাস। ইতোমধ্যে গাছগুলো ৮ থেকে ৯ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। এটি এক বছরের ফসল হওয়ায় পরিপূর্ণতা পেলে আখের দৈর্ঘ্য ১২ থেকে ১৪ হাত হবে বলে আশা করছেন তিনি। প্রতিটি আখের দাম ২০ থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন হায়দার মিয়া। সে হিসেবে এই ক্ষেত থেকে তিনি ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার স্বপ্ন দেখছেন।

বাজারজাতকরণ নিয়ে তিনি তেমন কোনো দুশ্চিন্তায় নেই। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা পর্যন্ত একাধিক পাইকারি ক্রেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে এলাকায় এককভাবে এই আবাদ করায় কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। চুরি ও পশুর আক্রমণের আশঙ্কা সবসময় থাকে। হায়দার মিয়া বলেন, “এলাকায় যদি একাধিক কৃষক এই আবাদ করত, তাহলে ঝুঁকি কমত, বাজারজাত করাও আরও সহজ হতো।”

তিনি আরও জানান, এই আখের পাতা, ছাল ও ঢাল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আবার গরুর খাদ্য হিসেবেও উপযোগী। শুকনো পাতা ঘরের ছাউনি তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, এই আখ থেকে গুড় তৈরি করাও সহজ এবং লাভজনক।

তবে দুঃখের বিষয়—এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা পাননি। হায়দার মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “কৃষি দপ্তরকে নানাভাবে যোগাযোগ করলেও তারা কোনোভাবেই সাড়া দেয়নি। যদি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেতাম, তাহলে এই আবাদ আরও উন্নত হতো, এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এলাকায় এই আবাদ নিয়ে কৃষি দপ্তরের তেমন কোনো সম্প্রসারণ বা সহযোগিতা নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেলে এই আবাদ অনেক ছড়িয়ে পড়ত। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতো।”

এই আখের ক্ষেত এখন শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উৎস নয়, বন্য পাখিদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। সকাল-সন্ধ্যায় পাখির কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত থাকে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নেয়।

স্থানীয়দের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে হায়দার মিয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।