ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনুদানকৃত মেশিন বিতর্কের কেন্দ্রে আরপি চিকিৎসক

ডা. একরামুল রেজা ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অনিয়ম

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্যাথলজি বিভাগে সম্প্রতি অনিয়ম এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে ডা. একরামুল রেজা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডা. একরামুল রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পেছন থেকে কোম্পানিগুলোকে হাসপাতালের নিয়ম অমান্য করে মেশিন স্থাপনে তদবির করছেন। এই অভিযোগের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার নিজ ভাতিজা, আহসানুর রেজা, যিনি ‘অ্যাডভান্স বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড কেমিক্যাল করপোরেশন’ (এবিসি করপোরেশন)-এর সেলস কো-অর্ডিনেটর। অভিযোগ অনুযায়ী, আরপি ডা. একরামুল রেজা তার পারিবারিক প্রভাব ব্যবহার করে মেশিন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করছেন।

চলতি বছরের ৭ জুলাই, এবিসি করপোরেশন হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্যাথলজি বিভাগে ৬টি প্যাথলজিক্যাল মেশিন অনুদান হিসাবে সরবরাহ করে। একই সঙ্গে বায়োটেক সার্ভিসেস কোম্পানি ১টি এবং মিনড্রে ইমুনোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি-ইউনিহেলথ লিমিটেড ১টি মেশিন অনুদান দেয়। এসব মেশিন হাসপাতালের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই সরবরাহ করা হয়। বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর ১৬ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দেয়, হাসপাতালের প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে কোনও নতুন যন্ত্রপাতি বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপন করা যাবে না। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে হাসপাতাল পরিচালক এবং বিভাগীয় প্রধানরা দায়ী থাকবেন।

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক এবং নার্স জানিয়েছেন, ৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে দুটি মেশিন প্যাথলজি বিভাগে গ্রহণ করা হয়। এই সময়ের স্থিরচিত্র এবং ভিডিও কাছে আছে। এরপর ৩০ আগস্ট আরও ৬টি মেশিন হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করে। হাসপাতাল পরিচালক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন ছাড়াই মেশিন গ্রহণ করায় প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ খানকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।

ডা. একরামুল রেজার ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠে, তিনি তার ভাই আহসানুর রেজার মাধ্যমে কোম্পানির মেশিন স্থাপনের চেষ্টা পরিচালনা করছেন। আবাসিক চিকিৎসকের এই তদবিরের ফলে হাসপাতালের নিয়মনীতি সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মেশিনগুলো রোগীর কাজে ব্যবহারের জন্য নয়, বরং কোম্পানির রিএজেন্ট বাণিজ্য থেকে কোটি কোটি টাকার উপার্জনের লক্ষ্যেই জোরপূর্বক স্থাপন করা হচ্ছে।

হাসপাতাল পরিচালকের নির্দেশনা থাকার পরেও মেশিন ফেরত না নেওয়ার কারণে এবিসি করপোরেশনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বায়োটেক সার্ভিসেস এবং ইউনিহেলথ কোম্পানি নির্দেশ মেনে তাদের অনুদানকৃত মেশিনগুলো ফেরত দিয়েছে। তবে এবিসি করপোরেশন এখনও কোনো মেশিন ফেরত দেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি উর্ধ্বতন হাসপাতাল কর্মকর্তা বলেন, একই মালিক দুটি কোম্পানির মাধ্যমে—এবিসি করপোরেশন থেকে ২টি এবং এসএস এন্টারপ্রাইজ থেকে ৪টি মেশিন—হাসপাতালে অনুদান দিয়েছেন। অর্থাৎ ৬টি মেশিনের সবকাণ্ড একই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে। এই মালিক হাসপাতালের সরঞ্জামের ব্যবসা একই সঙ্গে দুটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনা করছেন।

ডা. একরামুল রেজা জানান, তার ভাইয়ের প্রস্তাব এলে তিনি পরিচালক স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে তিনি জোর বা চাপ প্রয়োগ করেননি। এছাড়া তিনি বলেন, তিনি তার ভাইয়ের কোম্পানি সংক্রান্ত কার্যক্রম জানতেন না। তিনি উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে প্যাথলজি বিভাগে সিবিসি টেস্ট ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষাগুলো কার্যকর ছিল না। ডা. আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভাগটি পুনঃসংস্কার করেন এবং মেশিন অনুদানের জন্য কিছু ডিলারের কাছে চিঠি প্রেরণ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, ডা. একরামুল রেজা সরাসরি জড়িত থাকার কারণে হাসপাতালের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার তদবিরের ফলে সরকারি নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে এবং মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক এবং কর্মকর্তারা জানান, এই অনিয়মের কারণে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মেশিনগুলো যদি নিয়মমাফিক ব্যবহার হত, তবে রোগীরা উপকৃত হতেন। কিন্তু জোরপূর্বক মেশিন স্থাপনের ফলে রোগীর স্বার্থকে অবহেলা করা হয়েছে।

হাসপাতালের প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি এবং রক্তপরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধানরা পরিচালককে জানিয়েছেন, মেশিনগুলোর কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই। এরপর ১৭ নভেম্বর হাসপাতাল পরিচালক সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মেশিন ফেরত দিতে চিঠি পাঠান। সেই চিঠি পাওয়ার পর বায়োটেক সার্ভিসেস ও ইউনিহেলথ কোম্পানি তাদের মেশিন ফেরত দেয়। কিন্তু এবিসি করপোরেশন এখনও ৬টি মেশিন ফেরত দেয়নি।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, ডা. একরামুল রেজার পারিবারিক প্রভাব এবং আরপি হিসেবে দায়িত্বের সুযোগ ব্যবহার করে কোম্পানির স্বার্থে মেশিন স্থাপনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ কারণে হাসপাতালের নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালনা ও বিভাগের স্বচ্ছতা ভঙ্গ হয়েছে।

ডা. একরামুল রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে: সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মেশিন গ্রহণে প্রভাব প্রয়োগ, কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থে জোরপূর্বক মেশিন স্থাপন, প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই পদক্ষেপ নেওয়া এবং হাসপাতালের স্বার্থকে হেয় করা।

এই ঘটনার পর হাসপাতাল প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। রোগী ও জনস্বার্থের ক্ষতি রোধ করতে, অবৈধভাবে মেশিন স্থাপনকারী এবং তদবিরকারীদের দায়ী করা জরুরি। ডা. একরামুল রেজার এই কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে দোষের আওতায় পড়ে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধ করতে এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিতে, ডা. একরামুল রেজার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রয়োজন। মেশিন স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া হাসপাতালের স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।

অবশেষে, এই পুরো ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডা. একরামুল রেজা। আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে তার ভূমিকা, পারিবারিক সম্পর্ক ব্যবহার করে কোম্পানির স্বার্থ সুরক্ষিত করার চেষ্টা, এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা—সবই তাকে সরাসরি দায়ী করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুদানকৃত মেশিন বিতর্কের কেন্দ্রে আরপি চিকিৎসক

ডা. একরামুল রেজা ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অনিয়ম

আপডেট সময় ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্যাথলজি বিভাগে সম্প্রতি অনিয়ম এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে ডা. একরামুল রেজা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডা. একরামুল রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পেছন থেকে কোম্পানিগুলোকে হাসপাতালের নিয়ম অমান্য করে মেশিন স্থাপনে তদবির করছেন। এই অভিযোগের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার নিজ ভাতিজা, আহসানুর রেজা, যিনি ‘অ্যাডভান্স বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড কেমিক্যাল করপোরেশন’ (এবিসি করপোরেশন)-এর সেলস কো-অর্ডিনেটর। অভিযোগ অনুযায়ী, আরপি ডা. একরামুল রেজা তার পারিবারিক প্রভাব ব্যবহার করে মেশিন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করছেন।

চলতি বছরের ৭ জুলাই, এবিসি করপোরেশন হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্যাথলজি বিভাগে ৬টি প্যাথলজিক্যাল মেশিন অনুদান হিসাবে সরবরাহ করে। একই সঙ্গে বায়োটেক সার্ভিসেস কোম্পানি ১টি এবং মিনড্রে ইমুনোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি-ইউনিহেলথ লিমিটেড ১টি মেশিন অনুদান দেয়। এসব মেশিন হাসপাতালের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই সরবরাহ করা হয়। বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর ১৬ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দেয়, হাসপাতালের প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে কোনও নতুন যন্ত্রপাতি বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপন করা যাবে না। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে হাসপাতাল পরিচালক এবং বিভাগীয় প্রধানরা দায়ী থাকবেন।

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক এবং নার্স জানিয়েছেন, ৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে দুটি মেশিন প্যাথলজি বিভাগে গ্রহণ করা হয়। এই সময়ের স্থিরচিত্র এবং ভিডিও কাছে আছে। এরপর ৩০ আগস্ট আরও ৬টি মেশিন হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করে। হাসপাতাল পরিচালক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন ছাড়াই মেশিন গ্রহণ করায় প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ খানকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।

ডা. একরামুল রেজার ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠে, তিনি তার ভাই আহসানুর রেজার মাধ্যমে কোম্পানির মেশিন স্থাপনের চেষ্টা পরিচালনা করছেন। আবাসিক চিকিৎসকের এই তদবিরের ফলে হাসপাতালের নিয়মনীতি সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মেশিনগুলো রোগীর কাজে ব্যবহারের জন্য নয়, বরং কোম্পানির রিএজেন্ট বাণিজ্য থেকে কোটি কোটি টাকার উপার্জনের লক্ষ্যেই জোরপূর্বক স্থাপন করা হচ্ছে।

হাসপাতাল পরিচালকের নির্দেশনা থাকার পরেও মেশিন ফেরত না নেওয়ার কারণে এবিসি করপোরেশনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বায়োটেক সার্ভিসেস এবং ইউনিহেলথ কোম্পানি নির্দেশ মেনে তাদের অনুদানকৃত মেশিনগুলো ফেরত দিয়েছে। তবে এবিসি করপোরেশন এখনও কোনো মেশিন ফেরত দেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি উর্ধ্বতন হাসপাতাল কর্মকর্তা বলেন, একই মালিক দুটি কোম্পানির মাধ্যমে—এবিসি করপোরেশন থেকে ২টি এবং এসএস এন্টারপ্রাইজ থেকে ৪টি মেশিন—হাসপাতালে অনুদান দিয়েছেন। অর্থাৎ ৬টি মেশিনের সবকাণ্ড একই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে। এই মালিক হাসপাতালের সরঞ্জামের ব্যবসা একই সঙ্গে দুটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনা করছেন।

ডা. একরামুল রেজা জানান, তার ভাইয়ের প্রস্তাব এলে তিনি পরিচালক স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে তিনি জোর বা চাপ প্রয়োগ করেননি। এছাড়া তিনি বলেন, তিনি তার ভাইয়ের কোম্পানি সংক্রান্ত কার্যক্রম জানতেন না। তিনি উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে প্যাথলজি বিভাগে সিবিসি টেস্ট ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষাগুলো কার্যকর ছিল না। ডা. আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভাগটি পুনঃসংস্কার করেন এবং মেশিন অনুদানের জন্য কিছু ডিলারের কাছে চিঠি প্রেরণ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, ডা. একরামুল রেজা সরাসরি জড়িত থাকার কারণে হাসপাতালের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার তদবিরের ফলে সরকারি নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে এবং মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক এবং কর্মকর্তারা জানান, এই অনিয়মের কারণে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মেশিনগুলো যদি নিয়মমাফিক ব্যবহার হত, তবে রোগীরা উপকৃত হতেন। কিন্তু জোরপূর্বক মেশিন স্থাপনের ফলে রোগীর স্বার্থকে অবহেলা করা হয়েছে।

হাসপাতালের প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি এবং রক্তপরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধানরা পরিচালককে জানিয়েছেন, মেশিনগুলোর কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই। এরপর ১৭ নভেম্বর হাসপাতাল পরিচালক সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মেশিন ফেরত দিতে চিঠি পাঠান। সেই চিঠি পাওয়ার পর বায়োটেক সার্ভিসেস ও ইউনিহেলথ কোম্পানি তাদের মেশিন ফেরত দেয়। কিন্তু এবিসি করপোরেশন এখনও ৬টি মেশিন ফেরত দেয়নি।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, ডা. একরামুল রেজার পারিবারিক প্রভাব এবং আরপি হিসেবে দায়িত্বের সুযোগ ব্যবহার করে কোম্পানির স্বার্থে মেশিন স্থাপনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ কারণে হাসপাতালের নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালনা ও বিভাগের স্বচ্ছতা ভঙ্গ হয়েছে।

ডা. একরামুল রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে: সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মেশিন গ্রহণে প্রভাব প্রয়োগ, কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থে জোরপূর্বক মেশিন স্থাপন, প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই পদক্ষেপ নেওয়া এবং হাসপাতালের স্বার্থকে হেয় করা।

এই ঘটনার পর হাসপাতাল প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। রোগী ও জনস্বার্থের ক্ষতি রোধ করতে, অবৈধভাবে মেশিন স্থাপনকারী এবং তদবিরকারীদের দায়ী করা জরুরি। ডা. একরামুল রেজার এই কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে দোষের আওতায় পড়ে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধ করতে এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিতে, ডা. একরামুল রেজার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রয়োজন। মেশিন স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া হাসপাতালের স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।

অবশেষে, এই পুরো ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডা. একরামুল রেজা। আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে তার ভূমিকা, পারিবারিক সম্পর্ক ব্যবহার করে কোম্পানির স্বার্থ সুরক্ষিত করার চেষ্টা, এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা—সবই তাকে সরাসরি দায়ী করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।