সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রানা’কে স্মরণে রাখলেন মাদারপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী জনাব আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। রানা’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মরহুমের কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভা বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই এক অনাড়ম্বর পরিবেশে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রয়াত ছাত্রনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান খোকন। তিনি বলেন, “রানা ছিলেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সবচেয়ে সংগঠিত, সাহসী ও নীতিবান নেতাদের একজন। ছাত্ররাজনীতির যে আদর্শিক পথ ধরে আজও তরুণরা হাঁটে, রানা ছিলেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ।”
কবর জিয়ারত শেষে খোকন রানার পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটান এবং তাদের খোঁজখবর নেন। খোকন বলেন, “তার অকাল বিদায় শুধু পরিবার নয়, পুরো সংগঠনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তার স্বপ্ন এবং আদর্শ বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব।”
রানা তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় কর্মসূচি, আন্দোলন এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কলেজ ক্যাম্পাসে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। সহপাঠী এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের কাছে তিনি ছিলেন শান্ত, দৃঢ়, কিন্তু সংগঠনের স্বার্থে আপসহীন একজন ব্যক্তিত্ব।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উপস্থিত স্থানীয় নেতারা বলেন, রানা শুধু একজন ছাত্রনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান তরুণ, যিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করতেন। একজন সংগঠক হিসেবে তার দক্ষতার কথা স্মরণ করে তারা জানান, ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক ছাত্রদল নেতা বলেন, “রানার মতো পরিশ্রমী, নিবেদিত একজন নেতা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তার অকাল প্রয়াণ আমাদের জন্য বেদনার, তবে তার রেখে যাওয়া দৃঢ়তা ও সততা আমাদের পথ দেখায়।”
জিয়ারতের সময় দলীয় নেতাকর্মীরা রানার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জানান, বিপদের মুহূর্তে রানা কখনো পিছু হটেননি। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন সক্রিয়ভাবে।
এমপি প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রানা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। রাজনীতিতে দায়িত্ববোধ, ত্যাগ, আত্মনিবেদন এবং সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা কীভাবে প্রকাশিত হয়, রানা ছিল তার জীবন্ত উদাহরণ। আজকের রাজনীতিতে এমন নেতার বড় অভাব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের যুব ও ছাত্ররা যদি রানা’র মতো আদর্শবান চরিত্র গড়ে তুলতে পারে, তা হলে রাজনীতি ও সমাজ উভয়ই লাভবান হবে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতিতে শৃঙ্খলা, গণতন্ত্র ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে রানা’র পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রানার মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়। আত্মার শান্তি কামনা করে সুরা পাঠ করেন ছাত্রদল ও যুবদলের সদস্যরা। পরিবার ও সহযোদ্ধারা জানান, আট বছর পেরিয়ে গেলেও রানা আজও সবার স্মৃতিতে একইভাবে বেঁচে আছে। তিনি শুধু সংগঠনের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন পরিবারের অভিভাবকসুলভ একজন।
মরহুমের পরিবার এ সময় জানান, রানা সংগঠনের জন্য যেমন নিবেদিত ছিলেন, পরিবারের প্রতিও ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। তার স্মৃতিগুলো আজও তাদের হৃদয়ে তাজা। মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি পরিবারকে স্বস্তি দিয়েছে।
এদিকে ছাত্রদল ও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, রানার স্মৃতিকে ধরে রাখতে এবং তার আদর্শ তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতে আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা মনে করেন, রানা যে স্বপ্ন দেখতেন, সেই গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।
এমপি প্রার্থী খোকন বলেন, “রানার মতো ত্যাগী ও বিশ্বস্ত নেতাকে হারিয়ে আমরা শুধু একজন সংগঠক হারাইনি; হারিয়েছি ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।”
প্রয়াত ছাত্রনেতার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পুরো দিনজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় তার স্মরণে আলোচনা, দোয়া ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা জানান, আগামী দিনগুলোতেও তারা রানার পরিবারকে পাশে রাখবেন এবং তার নামের সম্মানে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
মাদারীপুর প্রতিনিধি 






















