ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত আরিফুরের পুনর্বহালের তদবির সব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম : রিজভী নীলকুঞ্জ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও একজন সংবাদকর্মীর জাতীয় সম্মান প্রাপ্তি পিপিআর বিধিমালা ভেঙে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কামরুল- ফিরাদুলের পৌনে ৭ কোটি টাকা দুর্নীতি দুখু মিয়ার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের শ্রদ্ধাঞ্জলি সৌদি থেকে আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে আজ কুমিল্লায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার নওগাঁর ধামইরহাটে ১ হাজার ৫৮০পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার বরগুনায় প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে রাখা শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ  প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবাদলিপি
ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজির অবৈধ অর্থে

শত কোটি টাকার মালিক রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন

পরিবেশ অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ লেগেই আছে আর অধিকাংশ অভিযোগ অবৈধ অর্থের প্রভাবে আলোর মুখ দেখেনা, সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলত, কিন্তু উল্টো চিত্র ছিল নীলফামারী জেলায়। এ জেলায় ৫৩টি ইটভাটা চালু । এরমধ্যে মাত্র ছয়টির নিবন্ধন রয়েছে, তিন টি আবেদনকৃত। এছাড়া বাকি ৪৪টি ইটভাটার না আছে পরিবেশ ছাড়পত্র, না আছে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে এ সকল ইটভাটা থেকে নীলফামারী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন কর্মরত থাকা অবস্থায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করতেন প্রতি ইটভাটা থেকে তিনি মাসিক ঘুষ ও গ্রহণ করতেন ।এর মধ্যে যে কয়টি বৈধ ইটভাটা আছে সেগুলো থেকেও তিনি চাঁদাবাজি করেন অর্থ না দিলে বিভিন্ন আইনের মামলার ভয় দেখাতেন। অভিযোগ আছে নীলফামারী তে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সরোজমিন পরিদর্শনে গেলে বেশ কয়েকটি অবৈধ ইটভাটার মালিকরা বলেন কমল কুমার বর্মন স্যার শালা একটা বাটপার ছিল, প্রতিমাসে তার চাঁদা তার কাছে পৌঁছে দিতাম তারপরও মাস শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে আরো চাঁদা নিতেন তবে একটা ভালো গুন ছিল টাকা নিলে কোন অভিযান বা জরিমানা করতেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেন উনি টাকা ছাড়া কিছুই বুঝতেন না সব সময় একা খেতে চাইতেন এবং খুব নিরব প্রকৃতির লোক সহজে কাউকে বুঝতে দিতেন না, বৈধ ইটভাটার মালিকরা তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দিলেও তিনি অবৈধ অর্থ দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলতেন, তবে শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে তাকে গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে রংপুরে বদলি করা হয়েছে।

কমল কুমার বর্মন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মোসলেমপুরের নগর কুমারী গ্রামের দরিদ্র কৃষক প্রেম হরি বর্মনের ছেলে, ২০১২ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চাকরিতে যোগদান করেই নেমে পড়েন অনিয়ম দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যে। অবৈধ অর্থ দিয়ে বাবার ভাঙ্গা কুঁড়েঘর ভেঙ্গে নির্মাণ করেছেন পাকা বিল্ডিং, বোদা উপজেলা ও পঞ্চগড় জেলায় আশেপাশে কয়েকশ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন, তবে বর্তমানে তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে নীলফামারীতে স্থায়ী হয়েছেন, চলা চলের জন্য রয়েছে একটি গাড়ি ও নীলফামারী সদরে রয়েছে একটি পাঁচ থেকে ছয়তলা বাড়ি, অভিযোগ আছে ঢাকার রামপুরা বনানী উত্তরা ও সাভারে রয়েছে একাধিক জমি ফ্ল্যট ক্রয় করেছেন, স্ত্রী সন্তান ও পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামে অভিযোগ আছে গচ্ছিত রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ইতিমধ্যে ভারতে পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতায় তিনি বাড়ি ও বিভিন্ন জমি ক্রয় করেছেন।

তার গ্রামের বাড়ি বোদা উপজেলার নগর কুমার গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দাদের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন তার বাবা খুব ভালো মানুষ ও একেবারে হতদরিদ্র ছিলেন প্রেম হরি বর্মন, তবে ছেলে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এই পরিবারের যা অনেকেই আশ্চর্য কত টাকা তিনি বেতন পান? কিভাবে এত সম্পদ করলেন অবৈধ অর্থ দিয়ে এত সম্পদ করার কোন সুযোগ নেই।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কমল কুমার বর্মন, স্ত্রী প্রতিমা রায় ও মেয়ে মৌমিতা রায় গৌরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবৈধ সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি প্রদান করেছে।

কমল কুমার বর্মন কখনো সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন না এবং ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক শুনলেই তিনি ফোন কেটে দেন, বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী বলেন তিনি সাংবাদিক এসেছে শুনলেই অফিস থেকে শটকে পড়তেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক শুনেই ফোন কেটে দেন।

কমল কুমার বর্মনের অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থে সম্পদের আরো তথ্য নিয়ে আসছে দ্বিতীয় পর্ব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত আরিফুরের পুনর্বহালের তদবির

ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজির অবৈধ অর্থে

শত কোটি টাকার মালিক রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন

আপডেট সময় ০৪:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

পরিবেশ অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ লেগেই আছে আর অধিকাংশ অভিযোগ অবৈধ অর্থের প্রভাবে আলোর মুখ দেখেনা, সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলত, কিন্তু উল্টো চিত্র ছিল নীলফামারী জেলায়। এ জেলায় ৫৩টি ইটভাটা চালু । এরমধ্যে মাত্র ছয়টির নিবন্ধন রয়েছে, তিন টি আবেদনকৃত। এছাড়া বাকি ৪৪টি ইটভাটার না আছে পরিবেশ ছাড়পত্র, না আছে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে এ সকল ইটভাটা থেকে নীলফামারী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন কর্মরত থাকা অবস্থায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করতেন প্রতি ইটভাটা থেকে তিনি মাসিক ঘুষ ও গ্রহণ করতেন ।এর মধ্যে যে কয়টি বৈধ ইটভাটা আছে সেগুলো থেকেও তিনি চাঁদাবাজি করেন অর্থ না দিলে বিভিন্ন আইনের মামলার ভয় দেখাতেন। অভিযোগ আছে নীলফামারী তে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সরোজমিন পরিদর্শনে গেলে বেশ কয়েকটি অবৈধ ইটভাটার মালিকরা বলেন কমল কুমার বর্মন স্যার শালা একটা বাটপার ছিল, প্রতিমাসে তার চাঁদা তার কাছে পৌঁছে দিতাম তারপরও মাস শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে আরো চাঁদা নিতেন তবে একটা ভালো গুন ছিল টাকা নিলে কোন অভিযান বা জরিমানা করতেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেন উনি টাকা ছাড়া কিছুই বুঝতেন না সব সময় একা খেতে চাইতেন এবং খুব নিরব প্রকৃতির লোক সহজে কাউকে বুঝতে দিতেন না, বৈধ ইটভাটার মালিকরা তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দিলেও তিনি অবৈধ অর্থ দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলতেন, তবে শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে তাকে গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে রংপুরে বদলি করা হয়েছে।

কমল কুমার বর্মন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মোসলেমপুরের নগর কুমারী গ্রামের দরিদ্র কৃষক প্রেম হরি বর্মনের ছেলে, ২০১২ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চাকরিতে যোগদান করেই নেমে পড়েন অনিয়ম দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যে। অবৈধ অর্থ দিয়ে বাবার ভাঙ্গা কুঁড়েঘর ভেঙ্গে নির্মাণ করেছেন পাকা বিল্ডিং, বোদা উপজেলা ও পঞ্চগড় জেলায় আশেপাশে কয়েকশ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন, তবে বর্তমানে তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে নীলফামারীতে স্থায়ী হয়েছেন, চলা চলের জন্য রয়েছে একটি গাড়ি ও নীলফামারী সদরে রয়েছে একটি পাঁচ থেকে ছয়তলা বাড়ি, অভিযোগ আছে ঢাকার রামপুরা বনানী উত্তরা ও সাভারে রয়েছে একাধিক জমি ফ্ল্যট ক্রয় করেছেন, স্ত্রী সন্তান ও পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামে অভিযোগ আছে গচ্ছিত রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ইতিমধ্যে ভারতে পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতায় তিনি বাড়ি ও বিভিন্ন জমি ক্রয় করেছেন।

তার গ্রামের বাড়ি বোদা উপজেলার নগর কুমার গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দাদের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন তার বাবা খুব ভালো মানুষ ও একেবারে হতদরিদ্র ছিলেন প্রেম হরি বর্মন, তবে ছেলে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এই পরিবারের যা অনেকেই আশ্চর্য কত টাকা তিনি বেতন পান? কিভাবে এত সম্পদ করলেন অবৈধ অর্থ দিয়ে এত সম্পদ করার কোন সুযোগ নেই।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কমল কুমার বর্মন, স্ত্রী প্রতিমা রায় ও মেয়ে মৌমিতা রায় গৌরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবৈধ সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি প্রদান করেছে।

কমল কুমার বর্মন কখনো সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন না এবং ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক শুনলেই তিনি ফোন কেটে দেন, বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী বলেন তিনি সাংবাদিক এসেছে শুনলেই অফিস থেকে শটকে পড়তেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক শুনেই ফোন কেটে দেন।

কমল কুমার বর্মনের অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থে সম্পদের আরো তথ্য নিয়ে আসছে দ্বিতীয় পর্ব।