সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন/সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের বিল নিয়ে অনিয়ম, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনসহ যেসব গুরুতর অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমি দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রতিবেদনে বিভিন্ন “সংশ্লিষ্ট সূত্র”, “অভিযোগকারী” ও “সংশ্লিষ্টদের” বক্তব্যের বরাত দেওয়া হলেও অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য দলিল, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, আদালতের নথি কিংবা নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগকে সংবাদ হিসেবে প্রচার করা আমার পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদাকে অযাচিতভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
বিশেষভাবে ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন গ্রহণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার দায়িত্বাধীন কোনো প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ বা এ ধরনের কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না। একইভাবে প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল প্রস্তুত বা অনুমোদন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ঠিকাদারগোষ্ঠীকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আমি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছি।
বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও বাস্তবতাবিবর্জিত। সরকারি বিধি-বিধান, দাপ্তরিক দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো ব্যক্তিগত বা আর্থিক স্বার্থে বদলি-পদায়ন প্রভাবিত করার অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি নেই।
প্রতিবেদনে আমার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন, জমি ও অন্যান্য সম্পদের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মালিকানা, মূল্য, অর্থের উৎস বা প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই তা প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। আমার বৈধ আয়, সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট হবে।
আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রতিবেদনে আমার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন, তথ্য বা দলিল আমার কাছে উপস্থাপন করে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও তা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা হোক। তদন্তে আমি সব ধরনের আইনানুগ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু কোনো প্রমাণিত তথ্য ছাড়া অনুমান, গুজব বা বেনামি সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অতএব, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করছি—প্রকাশিত প্রতিবেদনের অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর অংশগুলো যথাযথভাবে প্রত্যাহার/সংশোধন করে এই প্রতিবাদলিপি একই গুরুত্ব ও দৃশ্যমানতার সঙ্গে প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আমার সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে যাচাই এবং আমার বক্তব্য গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবাদলিপি
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ১১:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- ৫০১ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

























